চলমান অ্যাশেজ সিরিজের (Ashes Series) প্রথম তিন টেস্টে টানা হেরে ইতোমধ্যেই সিরিজ খুইয়েছে ইংল্যান্ড। তবে হারের ক্ষত মুছে মেলবোর্নের ঐতিহাসিক মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (MCG) শুরু হওয়া বক্সিং ডে টেস্টে (Boxing Day Test) রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে বেন স্টোকসের দল। টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৫২ রানেই অল-আউট করে দিয়েছে ইংলিশ বোলাররা। এই ধসের মূল কারিগর তরুণ পেসার জশ টং, যার বিষাক্ত সুইং আর বাউন্সের সামনে দুই সেশনও টিকতে পারেনি প্যাট কামিন্সের দল।
পেস-সহায়ক মেলবোর্ন ও জশ টংয়ের তাণ্ডব
মেলবোর্নের উইকেট সবসময়ই পেসারদের জন্য বাড়তি সুবিধা প্রদান করে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে দুই দলই তাদের একাদশে চারজন করে পেসার (Pacer) অন্তর্ভুক্ত করে। টস জিতে কন্ডিশনের পূর্ণ ফায়দা নিতে কোনো ভুল করেননি ইংলিশ অধিনায়ক। শুরু থেকেই অজি ব্যাটারদের ওপর স্টিম রোলার চালান জশ টং। ৪৫ রান খরচায় একাই শিকার করেন ৫টি উইকেট। তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা এই বোলিং স্পেল অস্ট্রেলিয়াকে শুরুতেই ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। টংয়ের পাশাপাশি গাস অ্যাটকিনসন ২ উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। অধিনায়ক বেন স্টোকস এবং ব্রাইডন কার্সও একটি করে উইকেট নিয়ে উৎসবে যোগ দেন।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং বিপর্যয় ও ক্ষুদ্র প্রতিরোধ
মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ছিল চরম হতাশাজনক। উসমান খাজা (২৯) এবং অ্যালেক্স ক্যারি (২০) কিছুটা লড়াইয়ের আভাস দিলেও তা বড় ইনিংসে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হন। মিডল অর্ডারে ধস নামার পর সর্বোচ্চ রানের জুটিটি আসে ক্যামেরুন গ্রিন ও মাইকেল নেসারের ব্যাট থেকে। ৫২ রানের এই ছোট প্রতিরোধই ছিল অজি ইনিংসের সর্বোচ্চ সাফল্য। নেসার একাই খেলেন ৩৫ রানের লড়াকু ইনিংস, যা দলের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সংগ্রহ। তবে এই ক্ষুদ্র প্রতিরোধ কোনোভাবেই ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণের (Pace Attack) তোপ সামলাতে যথেষ্ট ছিল না।
অস্ট্রেলিয়া একাদশে বড় পরিবর্তন ও রণকৌশল
মেলবোর্ন টেস্টের আগে অস্ট্রেলিয়ার একাদশে তিনটি বড় পরিবর্তন দেখা যায়। নিয়মিত অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, স্পিনার নাথান লায়ন এবং উইকেটকিপার জশ ইংলিশের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পান স্টিভ স্মিথ, মাইকেল নেসার ও ঝাই রিচার্ডসন। বিশেষজ্ঞ স্পিনার ছাড়া চারজন পিওর পেসার নিয়ে মাঠে নামার কৌশলটি বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায় অজিদের জন্য। ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে ঘরের মাঠে ব্যাকফুটে চলে গেছে স্বাগতিকরা।
সিরিজ পরবর্তী লড়াই ও মনস্তাত্ত্বিক জয়
যদিও ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে অ্যাশেজ খোয়ানো নিশ্চিত হয়ে গেছে, তবে মেলবোর্নে ইংল্যান্ডের এই আধিপত্য বিস্তারকারী বোলিং প্রদর্শন তাদের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেবে। সমালোচকরা যখন ইংলিশদের ‘বাজবল’ (Bazball) থিওরি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তখন বোলারদের এমন দাপুটে পারফরম্যান্স দলটিকে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে এগিয়ে রাখল। ১৫২ রানের এই স্বল্প পুঁজিতে অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দেওয়ার পর এখন ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বড় সুযোগ পাচ্ছে ইংল্যান্ড।