**** সবজি বাজারে স্বস্তি, মাছের দামে অস্থিরতা****
রাজধানীর বাজারগুলোতে শীতকালীন শাকসবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ শুরু হয়েছে, যার প্রভাবে এবার শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমতে শুরু করেছে বেশির ভাগ সবজির দাম। তবে অন্যদিকে চড়া রয়েছে মাছের বাজার, যেখানে ক্রেতাদের আগের মতোই বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে। শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) রাজধানীর নিউমার্কেট, হাতিরপুল, কলমিলতা ও মিরপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
সবজির বাজার: দাম কমল উল্লেখযোগ্যভাবে
বর্তমানে বাজারে বেশির ভাগ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনেছে। বিক্রেতারা বলছেন, শীত মৌসুমে সবজির সরবরাহ বেশি থাকায় দাম তুলনামূলকভাবে নিচে নেমেছে। তবে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে ফসল ও চারা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ফলন প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি।
কম দামে: মাঝারি ফুলকপি প্রতি পিস ২০-৩০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতি পিস ৩০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৩০ টাকা, মুলা ও শালগম প্রতি কেজি ৪০ টাকা, আলু প্রতি কেজি ২০ টাকা।
মাঝারি দামে: বেগুন প্রতি কেজি ৬০ টাকা, ঝিঙা প্রতি কেজি ৫০ টাকা, খিরা ও শিম প্রতি কেজি ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৫০-৬০ টাকা।
কিছুটা চড়া: বরবটি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৮০ টাকা।
মাছের বাজার: চড়া দামে ক্রেতাদের অস্বস্তি
সবজির বাজারে স্বস্তি ফিরলেও মাছের দাম আগের মতোই বাড়তি রয়েছে। ক্রেতাদের জন্য মাছ কেনা এখনো একটি ব্যয়বহুল বিষয়।
চাষের মাছ: তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২২০-২৫০ টাকা, পাঙাশ প্রতি কেজি ১৭০-২০০ টাকা, কই মাছ প্রতি কেজি ২৫০-২৮০ টাকা।
অন্যান্য মাছ: পাবদা প্রতি কেজি ৩০০-৩৫০ টাকা, মাঝারি আকারের রুই প্রতি কেজি ৩২০-৩৫০ টাকা, চাষের শিং মাছ প্রতি কেজি ৪০০-৪৫০ টাকা।
উচ্চ মূল্যের মাছ: শোল মাছ প্রতি কেজি ৮০০ টাকা, টেংড়া মাছ প্রতি কেজি ৫০০-৬৫০ টাকা এবং বড় চিংড়ি মাছ প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের এই উচ্চ মূল্য Inflation-এর প্রভাবকে নির্দেশ করছে।
মাংসের বাজার: স্থিতিশীলতা
অন্যদিকে, মাংসের বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। দাম প্রায় স্থিতিশীল আছে।
ব্রয়লার মুরগি: প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা।
সোনালি মুরগি: প্রতি কেজি ২৮০ টাকা।
গরুর মাংস: প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা।
খাসির মাংস: প্রতি কেজি ১১০০ টাকা।
ক্রেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সবজির দাম খুবই বাড়তি ছিল। সেই তুলনায় এখন দাম কিছুটা কমেছে, যা তাদের নিত্যদিনের বাজার খরচে কিছুটা ভারসাম্য এনেছে।