রাতের আঁধারে ১৪ ভারতীয়কে 'পুশইন'
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা নীমতলা সীমান্ত এলাকা দিয়ে এক পরিবারের ১৪ জন ভারতীয় নাগরিককে রাতের আঁধারে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার বা 'পুশইনে'র গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (BSF) বিরুদ্ধে। তারা সবাই এক পরিবারের সদস্য এবং তাদের মধ্যে পুরুষ, নারী ও শিশুও রয়েছে। এই ঘটনাটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে Human Rights এবং নাগরিকত্বের প্রশ্নটিকে সামনে এনেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ: আধার কার্ড কেড়ে নিয়ে জেল
ভুক্তভোগীরা জানান, তারা সবাই ভারতের উড়িষ্যার নাগরিক এবং মুসলিম ধর্মাবলম্বী। সেখানে তাদের বাড়িঘরও আছে। তাদের অভিযোগ, ভারতীয় পুলিশ তাদের 'বাংলাদেশি' অপবাদ দিয়ে ধরে জেলে পাঠায়।
নাগরিকত্বের প্রমাণ জব্দ: এ সময় তাদের Aadhaar Card, রেশন কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিকত্বের নথি কেড়ে নেওয়া হয়।
কারাবাস: উড়িষ্যার জেলে এক মাস পাঁচ দিন কাটানোর পর সেখান থেকে দুদিন আগে তাদের কলকাতায় নিয়ে আসা হয়।
পুশইন প্রক্রিয়া: এরপর নদিয়া জেলার গেঁদে সীমান্ত এনে কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে মধ্যরাতের পর তাদের বাংলাদেশে পুশইন করা হয়। এই ১৪ জনের মধ্যে ৫ জন পুরুষ, ৬ জন নারী ও ৪ জন শিশু রয়েছে। তারা সবাই হিন্দি ভাষাভাষী।
স্থানীয়দের সহযোগিতা ও পুলিশের উদ্ধার
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে পুশইনের শিকার এই ভুক্তভোগীদের দর্শনা বাসস্ট্যান্ডে স্থানীয়রা দেখতে পান। তারা মানবিক বিবেচনায় তাদের শীতের পোশাক ও খাবার দিয়ে সহযোগিতা করেন।
খবর পেয়ে দর্শনা থানা পুলিশ এবং বিজিবি (BGB) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালে নিয়ে যান।
দর্শনা থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, "পুশইনের শিকার অনেকেই অসুস্থ। হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা হবে। তারপর ডিসি-ইউএনও স্যাররা পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।" এই ঘটনায় Border Management এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।