• রাজনীতি
  • রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন চমক: গণ অধিকার পরিষদ ছেড়ে বিএনপিতে রাশেদ খাঁন, মিলল ঝিনাইদহ-৪ আসনের টিকিট

রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন চমক: গণ অধিকার পরিষদ ছেড়ে বিএনপিতে রাশেদ খাঁন, মিলল ঝিনাইদহ-৪ আসনের টিকিট

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন চমক: গণ অধিকার পরিষদ ছেড়ে বিএনপিতে রাশেদ খাঁন, মিলল ঝিনাইদহ-৪ আসনের টিকিট

নয়াপল্টনে মির্জা ফখরুলের হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিলেন মো. রাশেদ খাঁন; দীর্ঘদিনের রাজপথের সহযোদ্ধা নূরের সঙ্গ ত্যাগ করে শুরু করলেন মূলধারার রাজনৈতিক পথচলা।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপে (Political Landscape) বড় ধরনের চমক সৃষ্টি করে বিএনপিতে যোগ দিলেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুল দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দেন। দীর্ঘদিনের আন্দোলনের সহযোদ্ধা নুরুল হক নূরের সঙ্গ ছেড়ে রাশেদের এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

‘উপহার’ হিসেবে এল ঝিনাইদহ-৪ আসনের মনোনয়ন

রাশেদ খাঁনের যোগদানের পরপরই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের পক্ষ থেকে এক বড় ঘোষণা দেন। তিনি জানান, বিএনপির হাইকমান্ড মো. রাশেদ খাঁনকে ঝিনাইদহ-৪ আসনে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফখরুল বলেন, “রাশেদ খাঁন তরুণ প্রজন্মের একজন লড়াকু সৈনিক। বিএনপি তাকে স্বাগত জানাচ্ছে। ঝিনাইদহ-৪ আসনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে সহযোগিতা করবেন।” এই ঘোষণাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা রাশেদ খাঁনের জন্য একটি বড় ‘Political Breakthrough’ হিসেবে দেখছেন।

আবেগঘন বিদায়: সহযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা

বিএনপিতে যোগদানের আগে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন রাশেদ খাঁন। বিদায়বেলায় দলের সভাপতি নুরুল হক নূরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি একটি আবেগঘন চিঠি লেখেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় তারা রাজপথে একসঙ্গে লড়াই করেছেন। ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করলেও নূরের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রাশেদ তার চিঠিতে আরও লেখেন, “রাজনীতির এই পথচলায় আমার আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।”

কোটা আন্দোলন থেকে বিএনপির সংসদীয় প্রার্থী

২০১৮ সালে সরকারি চাকুরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান রাশেদ খাঁন। এরপর ছাত্র অধিকার পরিষদ ও পরবর্তীতে গণ অধিকার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে তিনি সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। দীর্ঘ সময় রাজপথে সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা এই তরুণ নেতার বিএনপিতে যোগদান দলটির যুব ও ছাত্র সংগঠনগুলোকে আরও উজ্জীবিত করবে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা। বিশেষ করে ঝিনাইদহের স্থানীয় রাজনীতিতে রাশেদের এই ‘Nomination’ এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

ঝিনাইদহ-৪ আসনে রাশেদ খাঁনের মনোনয়ন ঘোষণার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও, কেন্দ্র থেকে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ঐক্যবদ্ধ থাকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন ‘Youth Leader’ হিসেবে রাশেদ খাঁন বিএনপির Grassroots রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে মির্জা ফখরুলের সরাসরি সমর্থনে তার এই অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতভাবেই বিএনপির জন্য একটি কৌশলী 'Strategic Move'।

Tags: gono odhikar parishad bangladesh politics mirza fakhrul bnp news rashed khan political shift jhenaidah politics nomination news quota movement naya paltan