• দেশজুড়ে
  • ভোলায় আবাসিক হোটেলের বন্ধ ঘরে ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যু: নেপথ্যে কি ‘ব্ল্যাকমেইল’ ও পরকীয়া?

ভোলায় আবাসিক হোটেলের বন্ধ ঘরে ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যু: নেপথ্যে কি ‘ব্ল্যাকমেইল’ ও পরকীয়া?

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ভোলায় আবাসিক হোটেলের বন্ধ ঘরে ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যু: নেপথ্যে কি ‘ব্ল্যাকমেইল’ ও পরকীয়া?

শহরের একটি নামী হোটেলের সিলিং ফ্যান থেকে উদ্ধার করা হলো যুবলীগ নেতা ও ব্যবসায়ী আমির হোসেনের ঝুলন্ত মরদেহ; তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর ডিজিটাল এভিডেন্স।

ভোলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেলের নিভৃত কক্ষ থেকে মো. আমির হোসেন (৩৪) নামের এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর রোডের ‘হোটেল কে. জাহান’-এর ২০২ নম্বর কক্ষ থেকে পুলিশ তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। মৃত আমির হোসেন ভোলার লালমোহন উপজেলার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মহসিন তালুকদারের ছেলে এবং স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।

হোটেলের কক্ষ থেকে রহস্যময় অন্তর্ধান

পুলিশ ও হোটেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ ডিসেম্বর রাত ৮টায় আমির হোসেন হোটেল কে. জাহানের তৃতীয় তলার ২০২ নম্বর কক্ষে 'Check-in' করেন। এরপর ২৬ ডিসেম্বর সারাদিন তাঁর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে সন্দেহ হয় হোটেল কর্মীদের। রাতে বারবার দরজায় নক করেও সাড়া না মেলায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং সিলিং ফ্যানের সঙ্গে আমির হোসেনের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পুলিশ দ্রুত 'Crime Scene' কর্ডন করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

পেশাগত টানাপোড়েন না কি ব্যক্তিগত সংকট?

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, আমির হোসেন এক সময় লালমোহনে রড-সিমেন্টের সফল ব্যবসা করতেন। তবে বিপুল পরিমাণ 'Bank Loan' ও ব্যবসায়িক দেনার চাপে পড়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন তিনি। বর্তমানে তিনি একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের (Contracting Firm) কাজ তদারকি করতেন এবং কাজের সুবাদে তাকে হাতিয়া ও লক্ষ্মীপুরে যাতায়াত করতে হতো। গত বৃহস্পতিবার হাতিয়া যাওয়ার কথা বলে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। আমিরের সংসারে স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।

পরিবারের গুরুতর অভিযোগ: 'ব্ল্যাকমেইল' ও পরকীয়া

এই মৃত্যুকে কেবল সাধারণ আত্মহত্যা হিসেবে মানতে নারাজ আমিরের পরিবার। নিহতের বড় ভাই জাকির হোসেনের দাবি, আমির হোসেন এক নারীর সঙ্গে গভীর 'Extramarital Affair' বা পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, "আমরা আমিরের মোবাইল ফোনে এমন কিছু তথ্য ও প্রমাণ পেয়েছি যাতে বোঝা যায় সে কোনো একটি চক্রের মাধ্যমে 'Blackmail' বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হচ্ছিল। ওই নারী ঘটনার দিন হোটেলেও এসেছিলেন বলে আমাদের কাছে খবর রয়েছে।" পরিবারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশি তৎপরতা ও ময়নাতদন্ত

ঘটনা প্রসঙ্গে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, মরদেহটি বর্তমানে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। সেখানে 'Post-mortem' বা ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, "পরিবারের পক্ষ থেকে ব্ল্যাকমেইল ও পরকীয়ার যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলোকে আমরা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছি। আমিরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের 'Call Records' ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।"

আবাসিক হোটেলের নিরাপত্তা এবং অতিথিদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই অকাল মৃত্যুতে লালমোহন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Tags: bhola news extramarital affair blackmail case criminal investigation hotel death amir hossain businessman suicide bhola police autopsy report redmohan politics