দীর্ঘ বিরতির পর আবারও রুপালি পর্দার আলো কেড়ে নিতে প্রস্তুত বলিউড সেনসেশন কিয়ারা আদভানি। ভারতের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা গীতু মোহানদাসের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘টক্সিক’ (Toxic)-এ কিয়ারার প্রথম ঝলক বা First Look প্রকাশের পর থেকেই সরগরম নেটপাড়া। বিশেষ করে তাঁর অভিনীত রহস্যময়ী ‘নাদিয়া’ চরিত্রটি নিয়ে তৈরি হয়েছে এক অভাবনীয় উন্মাদনা।
রহস্যময়ী নাদিয়া: এক ‘বিষাক্ত রূপকথা’র গল্প
‘কেজিএফ’ খ্যাত সুপারস্টার ইয়াশ (Yash) এই সিনেমায় প্রধান পুরুষ চরিত্রে অভিনয় করছেন। তবে সম্প্রতি কিয়ারাকে নিয়ে তাঁর একটি মন্তব্য সিনেমার পারদ আরও চড়িয়ে দিয়েছে। ইয়াশ জানিয়েছেন, ‘টক্সিক’ সিনেমায় ‘নাদিয়া’ চরিত্রে কিয়ারা আদভানি দর্শকদের একটি ‘বিষাক্ত রূপকথা’ (Toxic Fairy Tale) শোনাবেন। নায়কের এমন রহস্যময় বার্তার পর থেকেই সিনেপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন জেগেছে— তবে কি এবার প্রথাগত লাস্যময়ী ইমেজ ভেঙে কিয়ারাকে কোনো নেতিবাচক বা ডার্ক চরিত্রে দেখা যাবে?
নজরকাড়া মেকওভার ও নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া
প্রকাশিত ফার্স্টলুকে কিয়ারার চোখ ধাঁধানো উপস্থিতি এবং অভিব্যক্তি দর্শকদের নতুন কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর এই লুক ভাইরাল হওয়ার পরপরই নেটিজেনদের মধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। অনেকেই অনুমান করছেন, কিয়ারার ক্যারিয়ারে এটি একটি মাইলফলক বা Game Changer প্রোজেক্ট হতে চলেছে, যেখানে তাঁকে সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে ও শক্তিশালী স্ক্রিন প্রেজেন্সের সঙ্গে দেখা যাবে।
তারকাবহুল কাস্টিং ও যন্ত্রণার আখ্যান
যন্ত্রণা, রহস্য আর অন্ধকারের এক অজানা ছায়ার গল্প নিয়ে নির্মিত হচ্ছে ‘টক্সিক’। সিনেমাটিতে কিয়ারা ও ইয়াশ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন তারা সুতারিয়া এবং হুমা কুরেশির মতো শক্তিশালী অভিনেত্রীরা। নির্মাতা গীতু মোহানদাস তাঁর সূক্ষ্ম ও প্রখর চলচ্চিত্র নির্মাণের শৈলীর জন্য পরিচিত, ফলে এই সিনেমাটি কেবল বিনোদন নয়, বরং একটি উচ্চমানের সিনেমাটিক এক্সপেরিয়েন্স দেবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সমালোচকরা।
মুক্তির দিনক্ষণ ও ব্যাপ্তি
বৃহৎ বাজেটের এই প্যান-ইন্ডিয়া সিনেমাটি ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। কন্নড়, হিন্দি, তামিল, তেলুগু এবং মালয়ালমসহ মোট ছয়টি ভাষায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘টক্সিক’। নতুন বছরের শুরুতেই এই সিনেমা নিয়ে যে পরিমাণ হাইপ তৈরি হয়েছে, তাতে এটি বক্স অফিসে বড় ধরনের ঝড় তুলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, কিয়ারার এই ‘নাদিয়া’ চরিত্রটি বড় পর্দায় কতটা বিষাক্ত বা মুগ্ধকর হয়ে ধরা দেয়।