• আন্তর্জাতিক
  • ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের কাবাতিয়ায় ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক অভিযান, জারি ‘পূর্ণ কারফিউ’

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের কাবাতিয়ায় ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক অভিযান, জারি ‘পূর্ণ কারফিউ’

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে পশ্চিম তীরের কাবাতিয়া শহরে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু। বাড়ি দখল, গণগ্রেপ্তার এবং পূর্ণ কারফিউ জারি করেছে ইসরায়েলি সেনারা।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের কাবাতিয়ায় ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক অভিযান, জারি ‘পূর্ণ কারফিউ’

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের কাবাতিয়া শহরে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এই অভিযানে বাড়িঘর দখল, গণগ্রেপ্তার এবং ‘পূর্ণ কারফিউ’ জারি করা হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে শুরু হওয়া এই অভিযানের দ্বিতীয় দিনে শনিবার শহরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। আল জাজিরা ও ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার বরাতে এ খবর জানা গেছে।

কারফিউ জারি ও বাড়ি দখল

শনিবার ইসরায়েলি সেনারা কাবাতিয়ার প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে দিয়েছে এবং বহু বাসিন্দাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা (Wafa)-এর তথ্য অনুযায়ী, শহরের বেশ কয়েকটি বাড়ি জোরপূর্বক দখল করে সেগুলোকে অস্থায়ী জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে বহু পরিবারকে নিজেদের ঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর রেডিও জানিয়েছে, কাবাতিয়ায় 'পূর্ণ কারফিউ' জারি রয়েছে।

অভিযানের কারণ ও কঠোর ব্যবস্থা

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের নির্দেশেই এই অভিযান শুরু হয়েছে। তার দাবি, উত্তর ইসরায়েলে সম্প্রতি সংঘটিত একটি ছুরিকাঘাত ও গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনার অভিযুক্ত ফিলিস্তিনি ব্যক্তিটি কাবাতিয়ার বাসিন্দা।

শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, একাধিক ডিভিশনের সেনা, সীমান্ত পুলিশ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের সদস্যদের কাবাতিয়ায় মোতায়েন করা হয়েছে। তারা সন্দেহভাজন হামলাকারীর বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে এবং সেটি ভেঙে ফেলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়।

মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণগ্রেপ্তার

ফিলিস্তিনিদের অভিযুক্ত করে তাদের পরিবারের বাড়ি ধ্বংস করার ইসরায়েলি নীতিকে দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার সংগঠনগুলো 'সমষ্টিগত শাস্তি' (collective punishment) হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছে এবং এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে সমালোচনা করছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা কাবাতিয়ার আরও বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাবে এবং যাকে ইচ্ছে তাকে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা করবে। কাবাতিয়ার এক বাসিন্দা আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, শহরের মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং ইসরায়েলি বাহিনীর হুমকি ও উসকানি রয়েছে।

অন্যান্য অঞ্চলেও অভিযান

শনিবার ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান শুধু কাবাতিয়াতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ওয়াফার খবরে বলা হয়েছে, রামাল্লাহ ও হেবরনের আশপাশের কয়েকটি গ্রামেও অভিযান চালানো হয়েছে। হেবরনের কাছের দুরা, আবদা ও ইমরেইশ এলাকা থেকে অন্তত আটজনকে মারধর করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও হামলা সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সেখানে নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়েছে দখলদার বাহিনী।

Tags: palestine west bank curfew middle east conflict gaza war kabatiya israeli military collective punishment