লিওনেল মেসি এবং তার দল ইন্টার মায়ামির জন্য নতুন বছরের শুরুটা হতে যাচ্ছে বেশ জমকালো। মেজর লিগ সকার (MLS) শুরু হওয়ার প্রায় দুই মাস বাকি থাকতেই মাঠের লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে ফ্লোরিডার ক্লাবটি। আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে লিগ শুরু হওয়ার আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে লাতিন আমেরিকা সফরে যাচ্ছে মায়ামি। তিন দেশের এই সফরে তারা তিনটি হাই-ভোল্টেজ প্রীতি ম্যাচ খেলবে বলে নিশ্চিত করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
পেরু দিয়ে শুরু মায়ামির মিশন
জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে লাতিন আমেরিকার এই সফরের পর্দা উঠবে। আগামী ২৪ জানুয়ারি পেরুর অন্যতম সফল ক্লাব ‘অ্যালিয়াঞ্জ লিমা’-র মুখোমুখি হবে ইন্টার মায়ামি। পেরুর ঘরোয়া ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবটির ঝুলিতে রয়েছে ২৫টি লিগ শিরোপা। মেসির উপস্থিতিতে পেরুর ফুটবল ভক্তদের মধ্যে এই ম্যাচটি নিয়ে ইতোমধ্যেই ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে।
কলম্বিয়ার চেনা ডেরায় দ্বিতীয় লড়াই
সফরের দ্বিতীয় গন্তব্য হিসেবে মায়ামি বেছে নিয়েছে কলম্বিয়াকে। ৩১ জানুয়ারি কলম্বিয়ার সফলতম ক্লাব ‘অ্যাতলেটিকো ন্যাসিওনাল’-এর বিপক্ষে মাঠে নামবেন মেসি-সুয়ারেজরা। এই ক্লাবটি শুধুমাত্র কলম্বিয়ার ১৮বারের চ্যাম্পিয়নই নয়, দক্ষিণ আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের আসর কোপা লিবার্তাদোরস (Copa Libertadores) জিতেছে দুবার। ফলে এই ম্যাচটি মায়ামির ডিফেন্সের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
ইকুয়েডরের ‘বার্সেলোনা’ ও মেসির লড়াই
সফরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। এদিন ইন্টার মায়ামি মুখোমুখি হবে ‘বার্সেলোনা এসসি’-র। নাম শুনে স্প্যানিশ জায়ান্ট এফসি বার্সেলোনার কথা মনে পড়লেও, এটি আসলে ইকুয়েডরের সফলতম ক্লাব। ১৬টি লিগ শিরোপার মালিক এই ক্লাবটির বিপক্ষে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ইকুয়েডরের বিখ্যাত ইস্তাদিও মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে (Estadio Monumental)। মেসির পুরনো ক্লাবের নামের সাথে মিল থাকায় এই ম্যাচটিকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এমএলএস শিরোপা রক্ষার চ্যালেঞ্জ
লাতিন আমেরিকার এই দীর্ঘ সফর শেষে ইন্টার মায়ামির মূল লক্ষ্য থাকবে লিগ শিরোপা ধরে রাখা। এমএলএস-এর নতুন মৌসুমে তাদের প্রথম ম্যাচ ২২ ফেব্রুয়ারি। অ্যাওয়ে ম্যাচে তারা লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি (LAFC)-র আতিথ্য নেবে। এরপর ২ মার্চ নিজেদের ঘরের মাঠে অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষে খেলবে মায়ামি।
প্রাক-মৌসুম (Pre-season) এই সফরকে ইন্টার মায়ামির টেকনিক্যাল টিম অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। লাতিন আমেরিকার বৈরী কন্ডিশন এবং শক্তিশালী ক্লাবগুলোর বিপক্ষে ম্যাচ খেলে ফুটবলারদের ফিটনেস ও দলীয় সমন্বয় (Tactical coordination) চূড়ান্ত করাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। লিওনেল মেসি কি পারবেন তার জাদুকরী পারফরম্যান্সে লাতিন আমেরিকার ভক্তদের হৃদয় আবারও জয় করতে? উত্তর মিলবে জানুয়ারির শেষ প্রহরে।