• রাজনীতি
  • নির্বাচনে জোটবদ্ধ হওয়ায় অস্থিরতা এনসিপিতে, কোরআনের আয়াত স্মরণ করে আল্লাহর সাহায্য চাইলেন নেত্রী

নির্বাচনে জোটবদ্ধ হওয়ায় অস্থিরতা এনসিপিতে, কোরআনের আয়াত স্মরণ করে আল্লাহর সাহায্য চাইলেন নেত্রী

এনসিপি জোটবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দলের শীর্ষস্থানীয় নেত্রী তাসনিম জারাসহ কয়েকজন দলত্যাগ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে, ডা. মাহমুদা মিতু সূরা আশ-শু'আরা-এর আয়াত স্মরণ করে আল্লাহর নির্দেশনা প্রার্থনা করেছেন।

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
নির্বাচনে জোটবদ্ধ হওয়ায় অস্থিরতা এনসিপিতে, কোরআনের আয়াত স্মরণ করে আল্লাহর সাহায্য চাইলেন নেত্রী

আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্তে দলের অভ্যন্তরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। শীর্ষ নেত্রী তাসনিম জারাসহ অনেকে ইতিমধ্যেই দলত্যাগ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে, এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতু পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত স্মরণ করে মহান আল্লাহর নির্দেশনা ও সাহায্য কামনা করেছেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক নাহিদ ইসলাম রোববার (২৮ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন যে, তারা নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতসহ ৮ দলীয় জোটের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই জোটের পক্ষ থেকে সবাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কাজ করবেন বলে তিনি জানান। তবে এই সিদ্ধান্তের পরই দলের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

এনসিপি নেত্রীর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা

দলের এই টালমাটাল অবস্থায় এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতু তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কোরআনের বাণী স্মরণ করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেছেন। তিনি লেখেন, 'নিশ্চয়ই আমার রব আমার সাথে আছেন। তিনি আমাকে পথ দেখাবেন।' এটি পবিত্র কোরআনের সূরা আশ-শু'আরা-এর ৬২ নম্বর আয়াতের একটি অংশ, যা হজরত মুসা (আ.) ফিরাউনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতির সময় বলেছিলেন। এই বাণীটি আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাস এবং কঠিন পরিস্থিতিতে পথ প্রদর্শনের আশ্বাস বহন করে।

আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের ঘোষণা

রোববার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জোটের সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বলেন, “নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমরা জামায়াতসহ ৮ দলীয় জোটের সঙ্গে একসঙ্গে নির্বাচন করছি। আমরা সবাই গণভোটে 'হ্যাঁ'-এর পক্ষে কাজ করব।”

তিনি আরও জানান, কে কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন তা সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে এবং জোটের বাইরে এনসিপির আলাদা কোনো প্রার্থী থাকবে না। ওই সব আসনে তারা জোটের পক্ষে কাজ করবেন।

৩০০ আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি

নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি প্রথম থেকেই আসন্ন নির্বাচনে এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে অংশগ্রহণ করতে চেয়েছিল এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পরবর্তীতে সংস্কার প্রশ্নে আরও দুটি দলের সাথে রাজনৈতিক সমঝোতা করে তিনটি দল মিলে একত্রে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা ছিল।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের কথা

এনসিপির আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির শাহাদাত বরণের কথা উল্লেখ করে বলেন, “শরিফ ওসমান হাদির শাহাদাত বরণ এবং তাকে প্রকাশ্যে গুলি করার মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনেক বেশি পরিবর্তন হয়েছে।” তিনি মনে করেন, এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আধিপত্যবাদী আগ্রাসনী শক্তি এখনো কার্যকর রয়েছে এবং গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরাজিত শক্তিরা নির্বাচন বানচাল করার চক্রান্ত করছে।

Tags: ncp bangladesh politics jamaat-e-islami political instability নাহিদ ইসলাম election coalition dr. mahmuda mitu