• রাজনীতি
  • ধানের শীষের ঘরে ঘরে বিদ্রোহ: যশোরের ৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে টালমাটাল রাজনীতি

ধানের শীষের ঘরে ঘরে বিদ্রোহ: যশোরের ৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে টালমাটাল রাজনীতি

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
ধানের শীষের ঘরে ঘরে বিদ্রোহ: যশোরের ৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে টালমাটাল রাজনীতি

তৃণমূলের ক্ষোভ ও জোটের সমীকরণ; ভোটের আগে যশোরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে, সমাধান খুঁজতে মরিয়া শীর্ষ নেতৃত্ব।

যশোরের নির্বাচনী রাজনীতিতে বইছে অস্থিরতার হাওয়া। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মনোনয়ন ঘিরে জটিলতা প্রকট হয়ে উঠেছে। ঘোষিত প্রার্থী এবং মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের মধ্যে শুরু হওয়া ‘রশি টানাটানি’ এখন রাজপথের বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা যেখানে প্রধান চ্যালেঞ্জ, সেখানে ‘লেজেগোবরে’ এই পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

একমাত্র স্থিতিশীল যশোর-৩ আসন

যশোরের ছয়টি আসনের মধ্যে ব্যতিক্রম কেবল যশোর-৩ (সদর) আসনটি। এখানে দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের প্রার্থিতা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। কেন্দ্রীয় এই নেতার বলয় এখানে সুসংগঠিত হওয়ায় কোনো প্রকার অস্থিরতা ছাড়াই নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। তবে বাকি পাঁচটি আসনেই চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

যশোর-১: মনোনয়ন বদল ও কাফনের কাপড়ে বিক্ষোভ

শার্শা উপজেলা নিয়ে গঠিত যশোর-১ আসনে মনোনয়ন নাটকীয়তা সব সীমা ছাড়িয়েছে। প্রথমে মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও গত ২৪ ডিসেম্বর তা পরিবর্তন করে নুরুজ্জামান লিটনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের জেরে তৃপ্তির অনুসারীরা কাফনের কাপড় পরে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক অবরোধের মতো চরম কর্মসূচি পালন করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে ‘Nomination Swap’ বা প্রার্থী পরিবর্তনের ফলে তৃণমূলের একাংশ যেমন উজ্জীবিত, অন্য অংশ তেমনি ক্ষুব্ধ। তৃপ্তি এখনও হাল ছাড়েননি, যা দলের জন্য একটি বড় ‘Strategic Challenge’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যশোর-৫: জোটের সমীকরণে জমিয়তকে আসন ছেড়ে দেওয়ায় ক্ষোভ

মণিরামপুর (যশোর-৫) আসনে বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্য থাকলেও এবার তা ‘Alliance’ বা জোটের স্বার্থে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করায় ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় বিএনপি। নেতাকর্মীদের দাবি, স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় নেতা শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে বাদ দেওয়া হলে আসনটি পুনরুদ্ধার করা অসম্ভব হবে। বিশেষ করে মণিরামপুরের ৮৪ হাজার ধর্মীয় সংখ্যালঘু ভোট টানার ক্ষেত্রে জমিয়তের প্রার্থীর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ বিএনপি নেতারাই।

যশোর-৪: ‘বিকল্প প্রার্থী’ ও আইনি জটিলতার ভয়

বাঘারপাড়া ও অভয়নগর নিয়ে গঠিত এই আসনে জনপ্রিয় নেতা টি এস আইয়ুবের ব্যাংক সংক্রান্ত কিছু ‘Banking Complications’ বা আইনি জটিলতার আশঙ্কায় দল ‘Alternative Candidate’ হিসেবে মতিয়ার রহমান ফারাজীকে মনোনয়ন দিয়েছে। একই আসনে দুজন প্রার্থীর হাতে মনোনয়ন ফরম থাকায় কর্মীদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। আইয়ুব নিজের প্রার্থিতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হলেও কর্মীরা কার পক্ষে মাঠে নামবেন—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘Conflicting Situation’।

যশোর-৬ ও যশোর-২: প্রবীণ বনাম নবীনের দ্বন্দ্ব

কেশবপুর (যশোর-৬) আসনে ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণকে সরিয়ে প্রবীণ নেতা আবুল হোসেন আজাদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এতে দলের বড় একটি অংশের সমর্থন থাকলেও তরুণ ও ছাত্র সমাজের একটি বিরাট অংশ হতাশ। অন্যদিকে, যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে সাবিরা সুলতানা মুন্নী এককভাবে প্রচারণা চালালেও অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের অনুসারীরা এখনও তাকে সমর্থন দিচ্ছেন না। এখানে জামায়াত প্রার্থীর সুসংগঠিত প্রচারণার মুখে বিএনপির এই বিভাজন দলের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

সমাধান কোন পথে?

যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন অবশ্য আশাবাদী। তিনি জানান, মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সব পক্ষকে নিয়ে বসে ঐক্যবদ্ধভাবে ‘Dhansher Shish’ (ধানের শীষ)-কে বিজয়ী করার জন্য কাজ করবেন তারা। তবে সাধারণ কর্মীদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির হাইকমান্ড এবং বিশেষ করে তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়া এই ‘Internal Conflict’ বা অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটানো প্রায় অসম্ভব।

ভোটের লড়াইয়ে নামার আগে নিজেদের ঘরের এই লড়াই বিএনপিকে কতটা দুর্বল করবে, নাকি শেষ মুহূর্তে তারা ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে—তা এখন সময়ের অপেক্ষা।

Tags: bangladesh election tarique rahman dhallywood news political conflict bnp nomination jessore politics nomination crisis electoral alliance bnp unrest bnp jessore.