টেলিভিশন পর্দার অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ শ্রাবণী বণিক আর নেই। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মারণরোগ ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ ও অসম লড়াই চালিয়ে অবশেষে চিরবিদায় নিলেন ‘রাঙা বউ’ খ্যাত এই অভিনেত্রী। তাঁর প্রয়াণে ওপার বাংলার বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ ও কঠিন সংগ্রাম
পারিবারিক ও চিকিৎসাসূত্রে জানা গেছে, অভিনেত্রী শ্রাবণী বণিক দীর্ঘদিন ধরে Lung Cancer (ফুসফুস ক্যানসার) এবং Metastasis-এ ভুগছিলেন। এই জটিল ব্যাধি তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল। গত কয়েক মাস ধরেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সোমবার সকালে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।
আর্থিক সংকট ও ক্রাউড ফান্ডিংয়ের লড়াই
শ্রাবণীর চিকিৎসার জন্য গত মাসেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন তাঁর ছেলে অচ্যুত আদর্শ। মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে ক্যানসারের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছিল। মায়ের প্রাণ বাঁচাতে অচ্যুত Digital Platform এবং Social Media-র মাধ্যমে অনুরাগীদের কাছে আর্থিক সহায়তার আর্জি জানিয়েছিলেন।
বিখ্যাত Crowdfunding প্ল্যাটফর্ম 'কেটো' (Ketto)-তে একটি তহবিলও গঠন করা হয়েছিল। সেখানে অচ্যুত লিখেছিলেন, "পরিবার সাধ্যমতো চেষ্টা করলেও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ১২ লাখ টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।" সময় সংক্ষেপ হওয়ায় সবার কাছে সাহায্যের অনুরোধ জানালেও শেষ পর্যন্ত নিয়তি অন্য পথ বেছে নিল।
সহকর্মীদের স্মৃতিতে শ্রাবণী বণিক
শ্রাবণীর মৃত্যুতে স্তম্ভিত তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও বন্ধুরা। জনপ্রিয় পরিচালক বাবু বণিক অত্যন্ত আবেগপ্রবণ কণ্ঠে ভারতীয় গণমাধ্যমকে বলেন, "শ্রাবণীর চলে যাওয়াটা আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। আমরা অনেকদিনের বন্ধু। শেষ সময়টা ও প্রচণ্ড শারীরিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গেছে। অসুস্থতার কারণে কাজ থেকেও অনেকদিন দূরে থাকতে হয়েছিল ওকে। ওর হাসিখুশি মুখটা এভাবে স্মৃতি হয়ে যাবে ভাবিনি।"
ছোট পর্দায় সাফল্যের পদচিহ্ন
টলিউডের ছোট পর্দার একজন শক্তিশালী অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন শ্রাবণী বণিক। তাঁর অভিনয় দক্ষতা দর্শক মহলে বিপুল সমাদৃত হয়েছে। ‘রাঙা বউ’ ধারাবাহিকে তাঁর চরিত্রটি বিশেষ জনপ্রিয়তা পায়। এ ছাড়াও ‘লালকুঠি’, ‘গোধূলী আলাপ’ এবং ‘সোহাগ চাঁদ’-এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে।
একজন প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেত্রীর এমন অকালপ্রয়াণ কেবল একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, বরং বাংলা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির জন্য এক বড় শূন্যতা। তাঁর প্রয়াণে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করছেন সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে সহ-অভিনেতারা।