বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (BPL) নতুন আসরে অভিষেকটা রাঙাতে পারছে না নোয়াখালী এক্সপ্রেস। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচেও ব্যাটিং ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারল না তারা। রোববার (২৯ ডিসেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে টসে হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১২৪ রান সংগ্রহ করেছে নোয়াখালী। দলের ব্যাটিং লাইনআপ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়লেও এক প্রান্ত আগলে রেখে অধিনায়ক হায়দার আলীর লড়াইয়ের ওপর ভর করেই কোনোমতে একশ পার করে দলটি।
শুরুর সম্ভাবনা ও পাওয়ার প্লে’র সাফল্য
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নোয়াখালীর দুই ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান ও মাজ সাদাকাত। তবে দলীয় ১৮ রানেই প্রথম ধাক্কা খায় তারা। ৬ বলে ৫ রান করা সোহানকে সাজঘরে ফিরিয়ে ব্রেক-থ্রু এনে দেন রাজশাহীর লঙ্কান পেসার বিনুরা ফার্নান্দো (Binura Fernando)। প্রথম উইকেটের পতনের পর রানের গতি সচল রাখার চেষ্টা করেন মাজ সাদাকাত ও সাব্বির হোসেন। পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৪২ রান তোলে নোয়াখালী, যা একটি সম্মানজনক স্কোরের ভিত তৈরি করে দিচ্ছিল।
মিডল অর্ডারের ব্যাটিং বিপর্যয়
পাওয়ার প্লে শেষ হতেই দৃশ্যপট বদলে যায়। রাজশাহীর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে খেই হারিয়ে ফেলে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। সাব্বির হোসেন ১১ বলে মাত্র ৬ রান করে রিপন মণ্ডলের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। কিছুক্ষণ পর থিতু হওয়া ওপেনার মাজ সাদাকাতকেও প্যাভিলিয়নের পথ দেখান হোসেন তালাত। ১৯ বলে ২৫ রান করা সাদাকাত শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন।
এরপর শুরু হয় উইকেট পতনের মিছিল। একশ রানের কোটা ছোঁয়ার আগেই ৫ উইকেট হারিয়ে চরম সংকটে পড়ে দলটি। মাত্র ৩ রানের ব্যবধানে আরও ২ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ড দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১০৩ রান। ব্যাটিং অর্ডারের এই মড়ক নোয়াখালীকে বড় লক্ষ্য গড়ার দৌড় থেকে ছিটকে দেয়।
অধিনায়কের প্রতিরোধ ও শেষবেলার লড়াই
দলের এমন ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করেন অধিনায়ক হায়দার আলী। তিনি একদিকে আগলে রেখে স্কোরবোর্ড সচল রাখার দায়িত্ব নেন। হায়দার আলীর লড়াকু ৩৩ রানের ইনিংসটি নোয়াখালীকে একশ পার করতে সাহায্য করে। ইনিংসের শেষ দিকে মেহেদী হাসান রানার দুটি বাউন্ডারি দলের সংগ্রহকে ১২৪ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। মূলত লোয়ার অর্ডারের এই ছোট ছোট অবদানের কারণেই লজ্জাজনক স্কোর এড়াতে সক্ষম হয় নোয়াখালী এক্সপ্রেস।
রাজশাহীর কৌশলী বোলিং ও পরিকল্পনা
আগের ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসের কাছে হারের পর এই ম্যাচে তিনটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। অধিনায়ক শান্তর বোলিং পরিবর্তন ও ফিল্ডিং সাজানো ছিল চোখে পড়ার মতো। রিপন মণ্ডল, বিনুরা ফার্নান্দো এবং মোহাম্মদ নাওয়াজদের মিলিত আক্রমণে নোয়াখালীর ব্যাটাররা বড় কোনো পার্টনারশিপ গড়তে ব্যর্থ হয়।
সিলেটের ব্যাটিং সহায়ক পিচে ১২৫ রানের লক্ষ্য রাজশাহীর জন্য খুব একটা কঠিন হওয়ার কথা নয়। তবে নোয়াখালী এক্সপ্রেস তাদের বোলারদের ওপর ভর করে এই স্বল্প পুঁজিতেই অঘটন ঘটাতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।