বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম মহীরুহ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোকাতুর পুরো দেশ। জাতীয় এই শোকের ঢেউ আছড়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও। দীর্ঘদিনের এই বর্ষীয়ান জননেত্রীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে শোকের বার্তা
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স' (সাবেক টুইটার)-এ একটি বিশেষ বার্তা পোস্ট করেন ইসহাক দার। সেখানে তিনি সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন। তার এই শোকবার্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেগম জিয়ার রাজনৈতিক গুরুত্ব ও তার দীর্ঘস্থায়ী 'Legacy'-র বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসহাক দারের প্রার্থনা ও সমবেদনা
নিজের অফিসিয়াল 'X' হ্যান্ডেলে দেওয়া পোস্টে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, "বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমি আমার আন্তরিক সমবেদনা (Sincere Condolences) জানাচ্ছি।"
শোকবার্তায় তিনি আরও যোগ করেন, "আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাকে জান্নাতের উচ্চ মকাম (Jannat-ul-Firdous) দান করুন এবং এই কঠিন সময়ে তার পরিবারকে ধৈর্য ধারণ করার শক্তি দান করুন। আমিন।"
বিশ্বনেতাদের নজরে বেগম জিয়া
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতেও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন মুসলিম দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে তার সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যায় থেকে আসা এই দ্রুত প্রতিক্রিয়া তারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রেক্ষাপট: এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ বিদায়
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৮০ বছর বয়সী এই নেত্রী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি লিভার সিরোসিস, হার্ট এবং কিডনির জটিলতাসহ মাল্টি-অর্গান সমস্যায় ভুগছিলেন। তার মৃত্যুতে বিএনপি সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এবং সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশের বিশিষ্ট নাগরিক এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও একে একে শোকবার্তা পাঠাতে শুরু করেছেন, যা এই কিংবদন্তি নেত্রীর বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ দেয়।