বর্জ্য টেন্ডার নিয়ে GCC-তে চরম সংকট
রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে (GCC) সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণে ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে গত ৬ মাস ধরে চলা গড়িমসি ও ধীরগতিতে ঠিকাদাররা চরম ক্ষোভ ও হতাশায় ভুগছেন। Waste Management টেন্ডার নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পুরো প্রক্রিয়াকে আরও বিতর্কিত করেছে।
দীর্ঘসূত্রিতা: ৬ মাসের অচলাবস্থা ও ঠিকাদারদের ক্ষোভ
স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ সিটিনার (Waste Management) অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা। প্রায় ৫৩ লাখ জনসংখ্যা এবং ৬ হাজার ছোট-বড় শিল্পকারখানা থাকা সত্ত্বেও, গত ১২ বছরে নগরীতে কোনো ডাম্পিং স্টেশন স্থাপিত হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ৫৭টি ওয়ার্ডে প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহ সেবার জন্য ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হলেও, ৬ মাস ধরে তা নিয়ে গড়িমসি চলছে, যা ঠিকাদারদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে।
টেন্ডার প্রক্রিয়ার অচলাবস্থা: কর্পোরেশনের অন্যতম প্রধান কাজ। এই কাজের জন্য গত জুন মাসের ১৫ থেকে ১৮ তারিখ পর্যন্ত দরপত্র বিক্রি করা হয় ৫৩৮টি, জমা পড়ে ৩৪৮টি এবং ৩০ জুন তা খোলা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা থাকলেও তা ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও হয়নি।
ঠিকাদারদের ক্ষতি: নগরীর ৪৫ নং ওয়ার্ডের নজরুল ইসলাম, ৫১ নং ওয়ার্ডের মোস্তাক আহমেদ এবং অন্যান্য ঠিকাদাররা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সিটি কর্তৃপক্ষ বারবারGCC**-এর ধীরগতি**
স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম প্রধান কাজ হলেও, GCC কর্তৃপক্ষ এই প্রক্রিয়ায় ধীরগতি দেখাচ্ছে।
বিশাল আবেদন আশ্বাস দিয়েও নানাভাবে 'তালবাহানা' করছে। অনেকেই ব্যাংক লোন (Bank Loan) নিয়ে দরপত্র আহ্বান করায় মাসে মাসে সুদ গুনতে হচ্ছে এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
নাগরিক সেবা বিঘ্ন: চলতি বছরের ১৫ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত মোট ৫৩৮টি দরপত্র বিক্রি হয়, যার মধ্যে ১৯ জুন জমা পড়ে ৩৪৮টি। ৩০ জুন দরপত্র খোলা হয় এবং প্রথম মূল্যায়ন কমিটি ২৬ আগস্ট ও পরবর্তী ১৮ নভেম্বর যাচাই-বািত:** ঠিকাদাররা মনে করেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া বিলম্ব হওয়ায় নাগরিক সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে, এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন বারবারই প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
**কর্তৃপক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য: বাতিল নাছাই সম্পন্ন করে।
নিয়ম ভঙ্গ: নিয়ম অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা থাকলেও, সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ তা মানছে না।
দরপত্র আহ্বানকারী মোস্তাক আহমেদ, শামীম সিদ্দীকি চূড়ান্তকরণ?
টেন্ডার প্রক্রিয়া বিলম্বের বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে:
১. প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা: তিনি জানান, সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত ছিল। তবে আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যেই ঠিকাদার নিয়োগ কার্যক্রম চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
২. প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) মুহাম্মদ সোহেল হাসান: তিনি একটি ভিন্ন ও কামরুল ইসলামের মতো ঠিকাদাররা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "৬ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো খবর নেই। আমরা হতাশ হয়ে গেছি।" ঠিকাদার কামরুল ইসলাম ব্যাংক লোন নিয়ে দরপত্র আহ্বানের কারণে মাসে ও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে ঠিকাদার নিয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি বা পরবর্তী কোনো আপডেট তাদের দেওয়া হয়নি। তিনি আরও জানান, প্রশাসকের স্যারের সঙ্গে আলোচনা করে **নীতিগতভাবে এই টেন্ডার মাসে ইন্টারেস্ট (Interest) দিতে হচ্ছে বলে আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ করেছেন। তারা হয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন, না হয় পে-অর্ডারের টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য: টেন্ডার বাতিল হওয়ার প্রক্রিয়া বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার টেন্ডার বাতিলের ঘোষণা এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার চূড়ান্তকরণের প্রস্তুতির বক্তব্য গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের Procurement Process নিয়ে বড় ধরনের প্রশাসনিক সংকট ও বিভ্রান্ত শঙ্কা**
টেন্ডার প্রক্রিয়া বিলম্বের বিষয়ে GCC-এর দুই শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্য পরস্পরবিরোধী হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে:
১. প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার আশ্বাস: প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা জানানির ইঙ্গিত বহন করে।