মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা ব্যাপী চলা এই তাণ্ডবে প্রায় অর্ধশত ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে চারপাশ। সংঘর্ষের জেরে বেশ কিছু দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৫ জন। ঘটনার সময় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
পূর্ববিরোধ ও সংঘর্ষের সূত্রপাত
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোস্তফাপুর এলাকার ইদ্রিস হাওলাদার এবং সামচু সরদারের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ বিদ্যমান। এই রেষারেষির জের ধরে মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে উভয় পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে নামে। মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হয় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল হামলা। সংঘর্ষ চলাকালীন অন্তত ৫০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, যা পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ব্যবসায়ীরা জীবন বাঁচাতে দোকানপাট বন্ধ করে দিলেও বেশ কয়েকটি স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়।
মহাসড়কে যানজট ও জনজীবন বিপর্যস্ত
সংঘর্ষের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক হয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ব্যস্ততম এই মহাসড়কে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। যাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে উদ্বেগ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করেন। খবর পেয়ে সদর মডেল থানা পুলিশ, ডিবি (Detective Branch) এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
বিবাদমান দুই পক্ষ এতটাই উগ্র হয়ে ওঠে যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও বাধার সম্মুখীন হন। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা পুলিশের দিকে তেড়ে আসার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তবে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং মহাসড়কে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
হতাহত ও বর্তমান অবস্থা
সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, "আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ এবং সেনাবাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে Law Enforcement Agency। জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি যারা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"