বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আর ইহলোকে নেই। তার প্রয়াণের পর ফেনীর ফুলগাজীতে তার পৈতৃক বাড়ি মজুমদার বাড়িতে নেমে এসেছে রাজ্যের নীরবতা ও শোকের ছায়া। তবে এই বাড়িতে রয়ে গেছে তার হাতে লাগানো একটি নিমগাছ, যা এখন কেবলই স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
পৈতৃক বাড়ির স্মৃতিচিহ্ন ২০০৮ সালে খালেদা জিয়া যখন তার পৈতৃক নিবাস ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরের মজুমদার বাড়িতে আসেন, তখন তিনি বাড়ির দরজায় দক্ষিণ শ্রীপুর দিঘির পাড়ে নিজ হাতে একটি নিমগাছ রোপণ করেন। পরিচর্যার মাধ্যমে গাছটি বড় হওয়ার পর এর গোড়াতে টাইলস দিয়ে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাম লিখে দেওয়া হয়। সেই গাছটিই এখন তার স্মৃতি বহন করছে। এছাড়া, ঘরের ভেতরে তার ব্যবহৃত বসার চেয়ার, বিশ্রাম নেওয়ার ছোট্ট খাট, ও খাবারের টেবিল—সবকিছুতেই লেগে আছে তার হাতের ছোঁয়া।
শোকাহত স্বজনদের প্রতিক্রিয়া পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে এই বাড়িতে এসে তিনি দাদা সালামত আলী মজুমদারের কবর জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছিলেন। বেগম জিয়ার মৃত্যুর খবরে আজ তার পরিবারের সদস্যরা শোকে মুহ্যমান। তার চাচাতো ভাই শামীম হোসেন মজুমদার বলেন, “বাড়িতে এলে তিনি বড়দের শ্রদ্ধা করতেন, তেমনি ছোটদের অনেক বেশি আদর করতেন। তাকে হারিয়ে দেশ-জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, সে ক্ষতি কখনো পোষাবে না।”
জনহিতকর কাজ ও ব্যক্তিগত জীবন নিজ পৈতৃক নিবাস এলাকায় জনসাধারণের জন্য খালেদা জিয়া মাদ্রাসা, মসজিদ, স্কুল-কলেজসহ বহু স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। পারিবারিক জীবনে তার নাম ছিল খালেদা খানম পুতুল। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট তিনি দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার আদি পৈতৃক নিবাস ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মজুমদার বাড়ি। ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাসের পর একই বছর জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তিনি ফেনী-১ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।