রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একটি সরকারি বাসভবন লক্ষ্য করে ইউক্রেন ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ক্রেমলিন। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ করে হামলার প্রমাণ দেয়। এর আগে কিয়েভ এই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করলেও মস্কো ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ দেখিয়ে তাদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ভিডিওর মাধ্যমে প্রমাণ পেশ রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ জনশূন্য এলাকায় পড়ে আছে। মস্কোর দাবি, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ইউক্রেনীয় বাহিনী ড্রোন ব্যবহার করে সরাসরি প্রেসিডেন্ট পুতিনের বাসভবনে আঘাত হানার চেষ্টা করেছিল। তবে রাশিয়ার শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সময়মতো সেটি শনাক্ত করে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়।
কিয়েভের অস্বীকার ও মস্কোর চ্যালেঞ্জ হামলার পরপরই ইউক্রেন সরকার একে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিল। কিয়েভের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তারা রাশিয়ার অভ্যন্তরে কোনো বেসামরিক বা রাজনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর নীতিতে বিশ্বাসী নয়। তবে বুধবার ভিডিওটি প্রকাশের মাধ্যমে রাশিয়া কিয়েভকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। রুশ কর্মকর্তাদের মতে, এটি কেবল একটি হামলা নয়, বরং রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হানার অপচেষ্টা।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এই ঘটনার পর ক্রেমলিন ও প্রেসিডেন্টের বাসভবনসহ রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড্রোন প্রযুক্তির আধুনিকায়নের ফলে এ ধরনের হামলা বর্তমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটকে আরও জটিল করে তুলছে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বছরের শেষ দিনে এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট পুতিনের ওপর এমন হামলার চেষ্টা চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের তীব্রতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। কিয়েভ এখনও এই ভিডিও প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।