আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি চলতি ২০২৫ সালের শুরুতে ভারতের একজন কূটনীতিকের সঙ্গে তার এক গোপন বৈঠকের কথা প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেছেন।
ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব তথ্য জানান। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে গোপন বৈঠক সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান জানান, এ বছর তিনি ভারতের একজন শীর্ষ পর্যায়ের কূটনীতিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা প্রকাশ্যে তার সঙ্গে দেখা করলেও ভারতীয় ওই কর্মকর্তা বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। জামায়াত আমিরের দাবি, ভারতের পক্ষ থেকেই গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ আসায় বিষয়টি এতদিন জনসম্মুখে আনা হয়নি। নয়াদিল্লি বর্তমানে বাংলাদেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকারী দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
জাতীয় সরকারের রূপরেখা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সবাইকে সবার প্রতি খোলা মনোভাব রাখতে হবে। সম্পর্ক উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। আমরা অন্তত পাঁচ বছরের জন্য একটি স্থিতিশীল দেশ চাই।’ তিনি প্রস্তাব করেন, যদি প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছায়, তবে সবাই মিলে একটি জাতীয় সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করা উচিত। এই সরকারের প্রধান লক্ষ্য হবে দুর্নীতিবিরোধী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা।
নেতৃত্ব ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন জামায়াত যদি নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসন পায়, তবে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সাধারণত যে দল সবচেয়ে বেশি আসন পায়, সেই দলের নেতাই প্রধানমন্ত্রী হন। তবে তিনি নিজে এই দায়িত্ব নেবেন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দল নেবে।
পররাষ্ট্রনীতি ও আঞ্চলিক ভারসাম্য ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়েও খোলামেলা কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, জামায়াত কোনো নির্দিষ্ট দেশের দিকে ঝুঁকে পড়তে চায় না। বরং ভারত, পাকিস্তানসহ সব দেশের সঙ্গে একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং সম্মানজনক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
রাষ্ট্রপতির পদ নিয়ে মন্তব্য সাক্ষাৎকারে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিষয়েও মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি মনে করেন, কোনো নির্বাচিত সরকারই বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে স্বস্তিতে থাকবে না। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনও সম্প্রতি রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, প্রয়োজনে মেয়াদের মাঝপথে তিনি পদত্যাগ করতে প্রস্তুত। তবে বুধবার রয়টার্স থেকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে নতুন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।