সংখ্যা কখনো কখনো পুরো সত্যটা বলে না। হোবার্ট হারিকেনসের বাংলাদেশি লেগস্পিনার রিশাদ হোসেনের বিগ ব্যাশের সাম্প্রতিক ম্যাচটিকে দেখলে এমনটাই বোঝা যায়। পার্থ স্কোর্চার্সের বিপক্ষে ৪ ওভারে ৩৫ রান দিয়েছেন তিনি—উইকেট পাননি। দেখলে মনে হতে পারে দিনটা তাঁর ছিল না। কিন্তু ম্যাচের প্রেক্ষাপট বলছে উল্টো কথা।
বিশাল রানের ম্যাচেও নিয়ন্ত্রিত স্পেল এই ম্যাচে পার্থ তুলেছে ২০ ওভারে মাত্র ৩ উইকেটে ২২৯ রান, অর্থাৎ ওভারপ্রতি গড়ে সাড়ে ১১–এর বেশি। এমন ম্যাচে রিশাদের স্পেলের ইকোনমি ছিল ৮.৭৫, যা কেবল সাশ্রয়ীই নয়—টিম বোলিংয়ের তুলনায় স্পষ্টতই আলাদা মানের। ম্যাচের শুরু থেকেই পার্থের ব্যাটাররা হোবার্টের বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই দ্রুত স্কোর তোলেন তারা। এমন অবস্থায় বল হাতে এসে প্রথম দুটি ওভারে মাত্র ১১ রান দেন রিশাদ। এতে রানের গতি কিছুটা কমে আসে, আর দল খানিকটা শ্বাস নেওয়ার সুযোগ পায়।
অন্য বোলারদের তুলনায় সাশ্রয়ী মাঝের সময়টায় মিচেল মার্শ ও অ্যারন হার্ডি ঝড় তুললে শেষ ১০ ওভারে পার্থ তোলে ১৪৯ রান, যা বিগ ব্যাশ ইতিহাসে শেষ ১০ ওভারে সর্বোচ্চ সংগ্রহ। মার্শ সেঞ্চুরি করলেও রিশাদ তুলনামূলক কম রান দিয়েছেন। তাঁর চেয়ে বেশি রান দিয়েছেন দলের অন্য চার ওভার বোলিং করা সবাই—ক্রিস জর্ডান (৪১), রাইলি মেরেডিথ (৬১), নাথান এলিস (৪৪)। এই ভয়ানক চাপের মধ্যেও রিশাদই ছিলেন তুলনামূলক কম খরুচে বোলার।
ব্যাট হাতেও সামান্য অবদান রান তাড়ায় নেমে হোবার্ট করতে পেরেছে ১৮৯ রান এবং ম্যাচ হেরেছে ৪০ রানে। রিশাদ ব্যাট হাতে করেছেন ৮ বলে ১০ রান। উইকেট না পাওয়া সত্ত্বেও রানের এই বন্যায় তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিংটাই শেষ পর্যন্ত দলের সেরা অবদানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে