গুলশানে ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও উত্তর-বিপ্লব পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে ছাত্রনেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। বৈঠকে অংশ নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঐক্যের ডাক: ছাত্রদল ও শিবিরের যৌথ পথচলা বৈঠকে তারেক রহমান দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ফ্যাসিবাদের অবশিষ্টাংশ নির্মূল করতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরসহ সকল ছাত্র সংগঠনকে ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ কাজ করার পরামর্শ দেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক মতাদর্শে ভিন্নতা থাকলেও ‘National Interest’ বা জাতীয় স্বার্থ এবং জুলাই বিপ্লবের অঙ্গীকার রক্ষায় কোনো বিভাজন রাখা চলবে না। তারেক রহমানের এই বার্তাকে দেশের দুই বৃহৎ ছাত্র সংগঠনের মধ্যে দীর্ঘদিনের দূরত্ব ঘুচিয়ে একটি নতুন ‘Political Alliance’ বা রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা বৈঠকের শুরুতে ছাত্র প্রতিনিধিরা সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে খোলা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এরপর আলোচনায় তারেক রহমান জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে কথা বলেন। ভিপি সাদিক কায়েম তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, “জুলাই বিপ্লব আমাদের সামনে যে ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে একটি ‘ইনসাফভিত্তিক’ বাংলাদেশ গড়তে হবে। একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এবং দিল্লির তাঁবেদার শক্তি এখনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এই ‘Fascist Forces’ বা অপশক্তিকে রুখতে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের কোনো বিকল্প নেই।”
রাষ্ট্র সংস্কার ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার বৈঠকে তারেক রহমান দেশের ভেঙে পড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন এবং তরুণ প্রজন্মের ভোটাধিকার (Voting Rights) ফিরিয়ে দেওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি মনে করেন, গত ১৬ বছর ধরে দেশের তরুণ সমাজ যে গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, তা ফিরিয়ে দেওয়াই হবে আগামী দিনের প্রধান ‘Agenda’। এছাড়া ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনমত যাচাইয়ে প্রয়োজনে ‘Referendum’ বা গণভোটের মতো উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও শহীদদের বিচার বৈঠকে আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গটি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। ডাকসু ভিপি অভিযোগ করেন, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তারেক রহমান এই বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে ‘বাংলাদেশপন্থি’ রাজনীতি চর্চার ওপর গুরুত্ব দেন।
নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা বৈঠক শেষে ভিপি সাদিক কায়েম জানান, তারেক রহমানের এই দিকনির্দেশনা ছাত্রসমাজের মধ্যে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি শোষণমুক্ত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ছাত্র প্রতিনিধিরা। রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে একপাশে সরিয়ে রেখে ‘Anti-Fascist’ ফ্রন্ট গঠন করাই এখন রাজপথের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।