সৈকতে মিলল মহাকাশীয় ধ্বংসাবশেষ! মালয়েশিয়ার সমুদ্র উপকূলে ভেসে আসা এক বিশালাকৃতির রহস্যময় বস্তুকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। পেকান জেলার নেনাসি উপকূলে কামপুং তানজুং সমুদ্রসৈকতে উদ্ধার হওয়া এই বিশাল ধাতব খণ্ডটিকে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ‘Space Debris’ বা মহাকাশ থেকে ছিটকে পড়া কোনো রকেট বা কৃত্রিম উপগ্রহের ধ্বংসাবশেষ বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। গভীর সমুদ্রের ঢেউয়ে ভেসে আসা এই বস্তুটি ঘিরে স্থানীয় জনমনে যেমন কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তেমনি নড়েচড়ে বসেছে দেশটির প্রশাসন ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলো।
বস্তুর আকার ও প্রকৃতি: দীর্ঘকাল ছিল সমুদ্রের গভীরে গত মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দারা সমুদ্রসৈকতে হাঁটতে গিয়ে প্রথম এই অদ্ভুত বস্তুটি দেখতে পান। খবর পেয়ে পেকান জেলা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং এলাকাটি কর্ডন করে ফেলে। উদ্ধারকৃত বস্তুটির বিশালত্ব সাধারণ মানুষকে রীতিমতো অবাক করেছে। পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ জাইদি মাত জিন জানান, বস্তুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪.২৬ মিটার (১৪ ফুট) এবং প্রস্থ প্রায় ৩.৬৪ মিটার (১২ ফুট)।
অদ্ভুত এই বস্তুটির গায়ে প্রচুর পরিমাণে সামুদ্রিক শামুক ও ঝিনুক আটকে থাকতে দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি প্রমাণ করে যে ধাতব খণ্ডটি দীর্ঘকাল সমুদ্রের তলদেশে নিমজ্জিত ছিল। প্রবল ‘Ocean Current’ বা সমুদ্র স্রোতের কারণে এটি সম্প্রতি তীরের কাছে ভেসে এসেছে। প্রবল পানির চাপ ও সংঘর্ষে বস্তুটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর মূল কাঠামোটি এখনো অক্ষত রয়েছে।
তেজস্ক্রিয়তার আতঙ্ক ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা মহাকাশ থেকে পড়া কোনো বস্তু হওয়ায় প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের মধ্যে ‘Radiation’ বা তেজস্ক্রিয় বিকিরণের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে মালয়েশিয়া পরমাণু শক্তি বিভাগ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে সেই আশঙ্কা নাকচ করে দিয়েছে। বুধবার এক বিবৃতিতে তারা নিশ্চিত করেছে যে, এই ধ্বংসাবশেষ থেকে কোনো ক্ষতিকারক রেডিয়েশন ছড়াচ্ছে না এবং এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ঝুঁকিপূর্ণ নয়। এই আশ্বাসের পর জনমনে স্বস্তি ফিরে এলেও বস্তুটির আসল পরিচয় নিয়ে রহস্য থেকেই যাচ্ছে।
উৎস সন্ধানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় রহস্যময় এই বস্তুটি বর্তমানে বিশেষ নিরাপত্তায় নেনাসি থানায় রাখা হয়েছে। মালয়েশিয়ার বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন মন্ত্রণালয় (MOSTI) এখন এটি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের মহাকাশ গবেষণার অংশ কি না, কিংবা কোনো রকেটের ‘Booster’ বা ‘Fuel Tank’ কি না, তা খতিয়ে দেখছেন ‘Tech Experts’ ও মহাকাশ বিজ্ঞানীরা।
মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এর আগেও প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন অংশে মহাকাশযানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার নজির রয়েছে। তবে মালয়েশিয়ার উপকূলে উদ্ধার হওয়া এই বস্তুটি ঠিক কোন কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে আছড়ে পড়েছিল, তা জানতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংস্থাগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপাতত রহস্যের চাদরে ঢাকা এই ‘Space Object’ এখন মালয়েশিয়ার বিজ্ঞানীদের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ।