• রাজনীতি
  • নির্বাচনী হলফনামা নিয়ে বিতর্ক: নাহিদ ইসলামের আয়ের ব্যাখ্যা দিল এনসিপি

নির্বাচনী হলফনামা নিয়ে বিতর্ক: নাহিদ ইসলামের আয়ের ব্যাখ্যা দিল এনসিপি

এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তামীম আহমেদ জানিয়েছেন, নাহিদ ইসলামের বার্ষিক আয় ১৬ লাখ টাকা এবং পেশা হিসেবে 'শিক্ষকতা' দেখানোর তথ্যটি সম্পূর্ণ ভুল।

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
নির্বাচনী হলফনামা নিয়ে বিতর্ক: নাহিদ ইসলামের আয়ের ব্যাখ্যা দিল এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী হলফনামা এবং তাঁর ৩২ লাখ টাকার মোট সম্পত্তি নিয়ে ছড়ানো বিভ্রান্তির অভিযোগ করেছে দলটি। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তামীম আহমেদ এক বিবৃতির মাধ্যমে এসব বিতর্কের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং তাঁর বার্ষিক আয়ের উৎস ও পরিমাণ তুলে ধরেছেন।

বিভ্রান্তি ও এনসিপির ব্যাখ্যা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী হলফনামা সংক্রান্ত কিছু বিভ্রান্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। বিশেষ করে হলফনামায় দেখানো নাহিদ ইসলামের ৩২ লাখ টাকার মোট সম্পত্তি এবং তাঁর পেশা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে, দলের যুগ্ম সদস্য সচিব তামীম আহমেদ একটি বার্তা প্রকাশ করে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

বার্ষিক আয়ের উৎস ও পরিমাণ

এনসিপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নাহিদ ইসলাম অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদে সাত মাস দায়িত্ব পালনকালে বেতন-ভাতা থেকে মোট ১১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯ টাকা আয় করেন। এই সময়ে তাঁর গড় মাসিক আয় ছিল প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পর তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে 'পরামর্শক' হিসেবে মাসিক এক লাখ টাকা সম্মানীতে কাজ শুরু করেন।

তিনি আরও জানান, গত অর্থবছরে উপদেষ্টা ও পরামর্শক—এই দুই পেশা থেকে নাহিদ ইসলামের মোট আয় ছিল ১৬ লাখ টাকা। এই ১৬ লাখ টাকার আয়ের ওপর ২০২৪-২৫ আয়বর্ষে তিনি ১ লাখ ১৩ হাজার ২৭৪ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন। এই সমস্ত তথ্য তাঁর আয়কর রিটার্নে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। এরই ভিত্তিতে নির্বাচনী হলফনামায় তাঁর বাৎসরিক আয়ের পরিমাণ ১৬ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

পেশা সংক্রান্ত অপতথ্যের প্রতিবাদ

নাহিদ ইসলামের পেশা 'শিক্ষকতা' হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে যে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তার প্রতিবাদ করেছে এনসিপি। দলটির বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়, আয়কর রিটার্ন কিংবা নির্বাচনী হলফনামার কোথাও তাঁর পেশা শিক্ষকতা হিসেবে দেখানো হয়নি। নির্বাচনী হলফনামার ৪নং কলামে তাঁর বর্তমান পেশা হিসেবে 'পরামর্শক' এবং পূর্বতন পেশা হিসেবে 'বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা' পদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে।

ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ

বিবৃতিতে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যেরও স্পষ্টতা আনা হয়। নাহিদ ইসলাম গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পদত্যাগ করার সময় সোনালী ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার ৬৯৮ টাকা জমা ছিল বলে তিনি পাবলিক পোস্টে জানিয়েছিলেন। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেই একই অ্যাকাউন্টে তাঁর জমার পরিমাণ ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩৬৩ টাকা ৫৭ পয়সা। এই সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট এবং নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য ২৮ ডিসেম্বরে সিটি ব্যাংকে খোলা একটি অ্যাকাউন্ট ছাড়া বর্তমানে নাহিদ ইসলামের আর কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই বলেও এনসিপি নিশ্চিত করেছে।

Tags: politics ncp bangladesh নাহিদ ইসলাম election affidavit annual income