জয়া আহসানের নতুন মানদণ্ড
অভিনয়ে ধারাবাহিকতা, চরিত্র বাছাইয়ে সাহস এবং ভিন্নধর্মী গল্পের প্রতি আগ্রহ—সব মিলিয়ে জয়া আহসান আজ নিজেই এক আলাদা মানদণ্ড তৈরি করেছেন। দেশের পাশাপাশি ভারতের দর্শকদের মনেও তিনি স্থায়ী আসন গড়েছেন। নতুন বছরেও তিনি সেই ধারা অব্যাহত রাখছেন তার নতুন চলচ্চিত্র 'ওসিডি'-এর মাধ্যমে।
পোস্টারে রহস্যময় ইঙ্গিত
১ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার, জয়া আহসান নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটির পোস্টার শেয়ার করার পাশাপাশি মুক্তির তারিখ ঘোষণা করেন। পোস্টারে তিনি কবিতার একটি লাইন ব্যবহার করেছেন: 'মনের কোণের সব দীনতা মলিনতা ধুইয়ে দাও।' এই পংক্তির মধ্যেই যেন সিনেমাটির গভীর গল্পের আভাস লুকিয়ে আছে। প্রকাশিত পোস্টারে গ্লাভস পরা হাতে কুয়াশাচ্ছন্ন কাচ মুছতে দেখা যায় জয়াকে। তার চোখে-মুখে এক অদ্ভুত ভয়, অস্বস্তি ও চিন্তার ভার, যা স্পষ্ট করে এটি কোনো সাধারণ গল্প নয়।
শ্বেতার মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন
'ওসিডি' সিনেমায় জয়া আহসানকে 'শ্বেতা' নামের এক মানসিক রোগে আক্রান্ত নারীর চরিত্রে দেখা যাবে। গল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো—শ্বেতা কি সত্যিই ওসিডি (অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডার)-তে ভুগছেন, নাকি এটি তার মনের ভেতরের অন্য কোনো দ্বন্দ্ব? এই প্রশ্ন এবং মানসিক টানাপোড়েনকে ঘিরেই ছবির কাহিনি এগোবে। সাইকোলজিক্যাল ড্রামা ঘরানার এই চলচ্চিত্রটি মানুষের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরতে চায়।
পরিচালনা ও অন্যান্য শিল্পী
সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন সৌকর্য ঘোষাল। কেন্দ্রীয় চরিত্রে জয়া আহসান ছাড়াও এতে অভিনয় করেছেন কৌশিক সেন, ফজলুর রহমান বাবু, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শ্রেয়া ভট্টাচার্য-সহ আরও অনেকে। ছবিটির প্রযোজনা করেছেন পূজা চট্টোপাধ্যায়। ভিন্নধর্মী কাজের জন্য প্রশংসিত সংগীত পরিচালক মেঘ বন্দ্যোপাধ্যায় এই ছবির সংগীতে যুক্ত ছিলেন।
দর্শক আগ্রহের কেন্দ্রে 'ওসিডি'
'ওসিডি' হলো এক ধরনের মানসিক ব্যাধি, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিরক্তিকর চিন্তার শিকার হন। সেই উদ্বেগ কমাতে তিনি কিছু নির্দিষ্ট কাজ করতে বাধ্য হন, যা স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করে। নতুন বছরের শুরুতে এমন একটি মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ের ওপর জয়া আহসানের মতো অভিনেত্রীর চলচ্চিত্র মুক্তির তারিখ ঘোষণা দর্শকদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। এখন অপেক্ষা ৬ ফেব্রুয়ারির, যখন শ্বেতার মনের ভেতরের রহস্যময় জগৎ বড় পর্দায় উন্মোচিত হবে।