কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে বড় ধরনের নাশকতার ছক বানচাল করে দিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে দুটি অত্যাধুনিক বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ দুই চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১২-এর একটি আভিযানিক দল।
বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার বাজুডাঙ্গা গ্রামে আল-সালেহ পাবলিক ওয়েলফেয়ার হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এই রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালানো হয়।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার সিদ্দিকের ছেলে সোহাগ হোসেন গিট্টু (২১) এবং একই এলাকার মৃত দিদার মণ্ডলের ছেলে মিশন ইসলাম (১৯)। দীর্ঘদিন ধরে তারা এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও Terrorist Activities-এর সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযানের বিস্তারিত জানিয়ে র্যাব-১২, সিপিসি-৩-এর কোম্পানি কমান্ডার ও পুলিশ সুপার আল মামুন চিশতী বলেন, "আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট Intelligence Report ছিল যে, একদল অপরাধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মজুদ করেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে বাজুডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালালে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে এই দুজনকে আটক করা হয়।"
তল্লাশিকালে তাদের হেফাজত থেকে ১টি Foreign Pistol (বিদেশি পিস্তল), ১টি রিভলবার এবং ৫ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত এই Illegal Weapons বা অবৈধ অস্ত্রগুলো তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও বড় ধরনের কোনো অপরাধ সংঘটনের জন্য ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছিল।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সোহাগ ও মিশনের বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তারা এলাকার চিহ্নিত Crime Syndicate-এর সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়াতে তারা বিভিন্ন সময়ে গা ঢাকা দিলেও এবার আর শেষ রক্ষা হয়নি।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে (Arms Act) একটি নতুন মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জব্দকৃত অস্ত্র ও আসামিদের কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্ত ঘেঁষা এই অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে র্যাবের এই ধরনের ‘Zero Tolerance’ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।