আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতা। হলফনামায় দেওয়া মামলার তথ্য এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাবের কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আজাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের (Legal Scrutiny) নির্ধারিত দিনে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা (Returning Officer) মো. আ. মান্নান এই সিদ্ধান্ত জানান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতির অন্দরমহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
শুনানি ও নাটকীয়তা: স্থগিতের পর বাতিল
এদিন বিকেলের শুরুতেই হামিদুর রহমান আজাদের প্রার্থিতা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর রিটার্নিং কর্মকর্তা তার প্রার্থিতা ঘণ্টাখানেকের জন্য স্থগিত রাখেন। এরপর পুনরায় শুরু হওয়া শুনানিতে মামলার পূর্ণাঙ্গ নথিপত্র এবং তথ্যের গরমিল পরিলক্ষিত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তার মনোনয়নপত্র বাতিল করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
হলফনামায় মামলার পাহাড়: ৭২টির মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়ালো ২টি
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় (Affidavit) হামিদুর রহমান আজাদ তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মোট ৭২টি মামলার তথ্য উল্লেখ করেছিলেন। এর মধ্যে ৭০টি মামলায় তিনি ইতিমধ্যে খালাস, অব্যাহতি কিংবা প্রত্যাহারের মাধ্যমে আইনি দায়মুক্ত হয়েছেন। তবে জটিলতা তৈরি হয়েছে বাকি দুটি মামলা নিয়ে।
১. প্রথমটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ঢাকার সিএমএম আদালতে দায়ের হওয়া একটি মামলা, যেটি বর্তমানে হাইকোর্ট (High Court) কর্তৃক স্থগিত রয়েছে। ২. দ্বিতীয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ (ICT-2) এ দায়ের হওয়া আদালত অবমাননার একটি মামলা। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে (Appellate Division) বিচারাধীন রয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আপিল বিভাগে বিচারাধীন ওই মামলার যথাযথ নথিপত্র ও আইনি প্রামাণ্য দলিল শুনানির সময় উপস্থাপন করতে না পারার কারণেই হামিদ আজাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।
পরবর্তী ধাপ: নির্বাচন কমিশনে আপিলের সুযোগ
রিটার্নিং কর্মকর্তার এই সিদ্ধান্তে জামায়াত শিবিরে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হলেও এখনই হাল ছাড়ছেন না তারা। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, এই বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে (Election Commission) আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দাবি, নথি সংক্রান্ত কিছু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন মামলার নথিপত্র সঠিকভাবে জমা দিলে তারা আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে ফিরবেন। তাদের ভাষায়, "দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া নিয়ে আমরা আশাবাদী, প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য ও প্রমাণাদি দিয়ে নির্বাচন কমিশনে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে।"
কক্সবাজার-২ আসনের সমীকরণ
কক্সবাজার-২ আসনটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। হামিদুর রহমান আজাদের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের খবরটি মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার ভোটারদের মধ্যে নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত আপিল বিভাগের রায় কার পক্ষে যায় এবং জামায়াত নেতা নির্বাচনী দৌড়ে ফিরতে পারেন কি না, তা জানতে আগামী ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে দেশবাসীকে।