• রাজনীতি
  • গণভোটে 'হ্যাঁ' দিলে কী পাবেন, 'না' দিলে কী হারাবেন: প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রচার

গণভোটে 'হ্যাঁ' দিলে কী পাবেন, 'না' দিলে কী হারাবেন: প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রচার

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত লিফলেটে বলা হয়েছে, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে ১১টি সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত হবে, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমাবদ্ধকরণ ও উচ্চকক্ষ গঠন অন্যতম।

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
গণভোটে 'হ্যাঁ' দিলে কী পাবেন, 'না' দিলে কী হারাবেন: প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রচার

দেশের চাবি জনগণের হাতে—এই স্লোগান সামনে রেখে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় আসন্ন গণভোট নিয়ে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক লিফলেটে 'হ্যাঁ' ও 'না' ভোটের গুরুত্ব এবং পরিবর্তনের সম্ভাবনাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। লিফলেটের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে 'গণভোট ২০২৬ সংসদ নির্বাচন দেশের চাবি আপনার হাতে।'

পরিবর্তনের যে ১১টি সুবিধা 'হ্যাঁ' ভোটে নিশ্চিত হবে

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত লিফলেটে বলা হয়েছে, দেশের মানুষ কী ধরনের বাংলাদেশ চায়, সেই প্রশ্ন সামনে রেখে ১১টি পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দিলেই নিশ্চিত হবে বলে জানানো হয়। পরিবর্তনগুলো হলো:

১. তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে ঐক্য। তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করবে। ২. সংবিধান সংশোধনে বিধিনিষেধ। সরকারি দল চাইলেই ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না। ৩. গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে গণভোট। সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান চালু থাকবে। ৪. বিরোধী দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদ। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিসমূহের সভাপতি নির্বাচিত হবেন। ৫. প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমা। প্রধানমন্ত্রী যতবারই নির্বাচিত হন না কেন, তিনি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। ৬. সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি। সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। ৭. ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য উচ্চকক্ষ। ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য সংসদে একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। ৮. স্বাধীন বিচারব্যবস্থা। দেশের বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে। ৯. মৌলিক অধিকারের সম্প্রসারণ। জনগণের মৌলিক অধিকারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, যার মধ্যে ইন্টারনেট সেবা কখনো বন্ধ করা না যাওয়ার নিশ্চয়তা অন্তর্ভুক্ত। ১০. রাষ্ট্রপতির ক্ষমাক্ষেত্র সীমিতকরণ। দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না। ১১. রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে একটি কার্যকর ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা হবে।

'না' ভোটের পরিণতি এবং জনগণের প্রতি বার্তা

লিফলেটের একেবারে শেষে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যদি জনগণ 'হ্যাঁ' ভোট দেয়, তবে উপরোক্ত সব সুবিধা পাওয়া যাবে। অন্যদিকে, গণভোটে 'না' ভোট দিলে এসব পরিবর্তনের কোনোটিই বাস্তবায়িত হবে না। দেশের নাগরিকদের মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এবার পরিবর্তনের চাবি তাদের হাতেই। গণভোট সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে www.gonovote.gov.bd এবং www.gonovote.bd ওয়েবসাইট ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Tags: bangladesh chief adviser caretaker government referendum parliamentary election constitutional changes