হাসি-গান আর প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে যিনি সবসময় মঞ্চ ও শ্রোতাদের মন মাতিয়ে রাখতেন, সেই শিল্পী তৌসিফ আহমেদের জীবনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। হঠাৎ শারীরিক বিপর্যয়ে নিস্তব্ধ হয়ে গেল তার সুরের জগৎ। নিজ বাসায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। চিকিৎসকদের পরীক্ষায় নিশ্চিত হয় যে তিনি স্ট্রোক করেছেন। শিল্পী নিজেই তার অসুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভয়াবহ আঘাত ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা
অসুস্থতার বিষয়ে তৌসিফ আহমেদ জানান, ২৯ ডিসেম্বর হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে তিনি প্রচণ্ড আঘাত পান। মাথায় মোট ২৭টি সেলাই লেগেছে। প্রথমে ধানমন্ডির সিটি হাসপাতালে, এরপর ইবনে সিনা হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। একদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার কারণে চিকিৎসার খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এই মুহূর্তে কিছুটা ভালো বোধ করায় তিনি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় ফিরেছেন। তিনি বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরেই আমি অসুস্থ। আগের মতো কাজ করতে পারছি না, যে কারণে চিকিৎসা খরচ ব্যয়বহুল হয়ে যাচ্ছে; যেটা আমার পক্ষে এই মুহূর্তে সম্ভব নয়।'
আগের হার্ট অ্যাটাকের ইতিহাস
তৌসিফ আহমেদ জানান, এর আগেও তিনি দুইবার হার্ট অ্যাটাক করেছেন। প্রথমবার ২০২২ সালের এপ্রিলে হার্ট অ্যাটাক হলে তাকে ছয় ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। এরপর ২০২৪ সালের অক্টোবরে দ্বিতীয়বার হার্ট অ্যাটাক করেন তিনি। দ্বিতীয়বারের পর থেকেই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি বাসাতেই বিশ্রামে ছিলেন।
ভক্তদের কাছে দোয়া কামনা ও ফিরে আসার প্রত্যাশা
শারীরিক অবস্থা নিয়ে তিনি বর্তমানে আগের চেয়ে ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন। তবে আরও অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। এই মুহূর্তে তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। অসুস্থতা কাটিয়ে সুস্থ হয়ে দ্রুত গানে ফিরতে চান এই জনপ্রিয় শিল্পী।
তৌসিফের জনপ্রিয় গান
তৌসিফ আহমেদ গাওয়ার পাশাপাশি গান লেখেন, সুর ও সংগীতায়োজন করেন। তার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে— 'দূরে কোথাও আছি বসে', 'বৃষ্টি ঝরে যায়', 'এ মনের আঙিনায়' এবং 'জান পাখি'। ২০০৭ সালে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘অভিপ্রায়’ প্রকাশিত হয়।