রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিভাজন নয়, নাগরিক পরিচয়েই সমঅধিকার: তারেক রহমান
বৈঠকে তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরেন। বিএনপি মিডিয়া সেলের প্রধান অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তারেক রহমান প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করে বলেন, “আমি দেশের মানুষকে কোনোভাবেই ‘সংখ্যালঘু’ বা ‘সংখ্যাগুরু’ বিভাজনে ভাগ করতে চাই না। নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের অধিকার সমান। আমরা এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও রাষ্ট্র গড়তে চাই যেখানে ধর্ম যার যার, কিন্তু রাষ্ট্র সবার।” তাঁর এই অবস্থান উপস্থিত নেতাদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলে।
খালেদা জিয়ার আমলের নিরাপত্তা মডেলের প্রশংসা ও বর্তমান প্রত্যাশা
বৈঠকে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাঁদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। নেতারা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, অতীতে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় যে ধরনের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ভোগ করেছিল, তাঁরা বর্তমান ও ভবিষ্যতে সেই একই ধরনের শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাশা করেন। বিএনপির শাসনামলের ‘সিকিউরিটি প্রটোকল’ এবং সাম্প্রদায়িক সহিংসতা দমনে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর কথা স্মরণ করে তাঁরা তারেক রহমানের কাছে সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।
৫ আগস্ট পরবর্তী চ্যালেঞ্জ ও রাজনৈতিক রূপরেখা
বৈঠক শেষে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সুব্রত চৌধুরী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত বহুমুখী চ্যালেঞ্জ নিয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে। সুব্রত চৌধুরী বলেন, “বিগত কয়েক মাসে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যেসব সমস্যা সামনে এসেছে, সেগুলো নিরসনের মাধ্যমে কিভাবে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে আমরা তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। আমরা চাই আগামীর বাংলাদেশ হবে ভয়হীন এবং সত্যিকারের গণতান্ত্রিক।”
জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের শুরুতেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে তারেক রহমানের এই বৈঠক অত্যন্ত অর্থবহ। নির্বাচনের আগে ও পরে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা রুখতে বিএনপি যে একটি ‘ন্যাশনাল ইউনিটি’ বা জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে চায়, এই বৈঠক তারই অংশ। বৈঠকে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক নেতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন, যারা আগামীর পথচলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার শপথ পুনর্ব্যক্ত করেন।