• দেশজুড়ে
  • তিস্তা জলাধার ঘিরে ৭০০ কৃষকের বিরুদ্ধে মামলা, প্রতিবাদে মশাল মিছিল

তিস্তা জলাধার ঘিরে ৭০০ কৃষকের বিরুদ্ধে মামলা, প্রতিবাদে মশাল মিছিল

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
তিস্তা জলাধার ঘিরে ৭০০ কৃষকের বিরুদ্ধে মামলা, প্রতিবাদে মশাল মিছিল

তিস্তা জলাধার ঘিরে ৭০০ কৃষকের বিরুদ্ধে মামলা, প্রতিবাদে মশাল মিছিল

নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার সীমানায় বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পের অধীনে একটি জলাধার খননকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই খননকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে প্রায় সাতশ কৃষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), যার প্রতিবাদে স্থানীয় কৃষকরা মশাল মিছিল বের করেছেন।

মামলা ও অভিযোগ পাউবোর জলঢাকা কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। জলঢাকা থানার ওসি নাজমুল আলম নিশ্চিত করেছেন যে, শুক্র ও শনিবার সকালে করা এই মামলাগুলোতে দণ্ডবিধির ১৪৩ ও ৪৪৮ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। উভয় মামলায় মোট ৬৯১ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৯ ও ২২ জন করে নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ রয়েছে এবং বাকিরা অজ্ঞাত। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জলাধার খনন সরকারের একটি উন্নয়নমূলক কাজ। এতে বাধা দিয়ে অবৈধভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখলকারীরা হামলা চালান এবং যন্ত্রপাতি ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। ঘটনাগুলো পূর্বপরিকল্পিত ও সংগঠিত বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

কৃষকদের প্রতিবাদ ও দাবি মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শনিবার সন্ধ্যায় বুড়ি তিস্তা এলাকায় সহস্রাধিক মানুষ অংশ নিয়ে মশাল মিছিল বের করেন। কৃষকদের মূল দাবি হলো, তাদের বাপ-দাদার আমলের তিন ফসলি জমি রক্ষা করা। কৃষকদের তথ্যমতে, ডিমলার কুঠিরডাঙ্গা, রামডাঙ্গা ও পচারহাট এবং জলঢাকার চিড়াভিজা গোলনা ও খারিজা গোলনা মৌজায় প্রায় ৯৫৭ একর তিন ফসলি কৃষিজমি রয়েছে। পাশাপাশি আরও প্রায় ১৬০ একর জমিতে জনবসতি ও সরকারি স্থাপনা অবস্থিত। এসব জমিতে চাষাবাদ করেই দীর্ঘদিন ধরে তারা জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কৃষকদের অভিযোগ, সম্প্রতি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিন ফসলি জমিতে উঁচু বাঁধ দিয়ে জলাধার খননের চেষ্টা করা হচ্ছে, যার ফলে তারা জমিতে যেতে পারছেন না। জমি ছাড়তে নানা ধরনের চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করায় কৃষকদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। মামলা প্রত্যাহার না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

পাউবোর বক্তব্য এ বিষয়ে পাউবোর নীলফামারী নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান জানিয়েছেন যে, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে অধিগ্রহণ করা জমির সীমানা ও মালিকানা যাচাই শেষে অনুমোদন নিয়ে খননকাজ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জমিগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের নামে রেকর্ডভুক্ত এবং নিয়মিত রাজস্ব সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়া হচ্ছে। প্রকৌশলী আতিকুর রহমানের মতে, এই উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলে এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন এবং কৃষকদের অভিযোগগুলো সঠিক নয়।

Tags: bnp bangladesh politics election nomination sirajganj-3 khandakar selim jahangir