শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভির হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, যারা এই জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
ঘটনার বিবরণ
ডামুড্যার কেউরভাঙ্গা বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী ও মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট ছিলেন খোকন চন্দ্র দাস। গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে তিনি দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁকে চিনে ফেলায় প্রথমে ছুরিকাঘাত করে এবং পরে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। প্রাণ বাঁচাতে খোকন তখন পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁর শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে দগ্ধ ও গুরুতর জখম হওয়ার কারণে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকালে তিনি মারা যান।
মামলা ও আসামিদের পরিচয়
খোকন চন্দ্র দাসকে ছুরিকাঘাতের পর গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ডামুড্যা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলায় মোট তিনজনকে আসামি করা হয়— কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৭), সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যা (২১) ও শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদার (২৫)।
স্বজন ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
খোকন দাসের মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হলে তাঁকে শেষবারের মতো দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করেন। কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্বজন ও স্থানীয়রা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস অভিযোগ করে বলেন, 'আমার ছেলে মারা যাওয়ার আগে হামলাকারীদের নাম বলে গেছে। মামলা করার তিন দিন পরও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অবিলম্বে আসামিদের গ্রেপ্তার চাই।'
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইব্রাহিম মাদবর খোকন দাসকে 'গরিবের ডাক্তার' হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এমন নিরীহ মানুষকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। প্রতিবেশী ও অন্য ব্যবসায়ীরাও হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
হিন্দু মহাজোট ও পূজা উদযাপন পরিষদের মানববন্ধন
খোকন দাসের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্যরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। বক্তারা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রবিউল হক জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তি হামলাকারীদের নাম বলে গেছেন এবং এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।