• দেশজুড়ে
  • পৌষের হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় থমকে গেছে জনজীবন: দেশের ৬ জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ, পারদ নামল ১০ ডিগ্রিতে

পৌষের হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় থমকে গেছে জনজীবন: দেশের ৬ জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ, পারদ নামল ১০ ডিগ্রিতে

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
পৌষের হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় থমকে গেছে জনজীবন: দেশের ৬ জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ, পারদ নামল ১০ ডিগ্রিতে

ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত প্রান্তিক জনপদ; হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর ভিড়, আরও অবনতির পূর্বাভাস আবহাওয়া অফিসের।

পৌষের মাঝামাঝিতে এসে স্বরূপে আবির্ভূত হয়েছে প্রকৃতি। দেশজুড়ে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। উত্তর থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে দিগন্ত, যার ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে তীব্র শীতের দাপটে জনজীবন এখন বিপর্যস্ত। আবহাওয়া অধিদফতরের (Meteorological Department) তথ্যমতে, দেশের অন্তত ছয়টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ (Cold Wave), যা আগামী কয়েক দিনে আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

১০ ডিগ্রিতে নামল পারদ: কাঁপছে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল

গত কয়েক দিন ধরেই দেশের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমছে। ঠাকুরগাঁও ও শরীয়তপুরসহ বেশ কিছু জেলায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে নেমে এসেছে। কনকনে ঠান্ডার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাতাসের আর্দ্রতা। দিনের বেলা সূর্যের দেখা মিললেও রোদের তেজ নেই বললেই চলে। শৈত্যপ্রবাহের কারণে রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই 'Sudden Temperature Drop' বা তাপমাত্রার আকস্মিক পতন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী

শীতের এই দাপটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ। ভোরবেলা কাজে বের হওয়া রিকশাচালক, ভ্যানচালক কিংবা কৃষকদের জন্য হাড়কাঁপানো কনকনে শীত এক মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে ছিন্নমূল মানুষের কষ্ট চরমে পৌঁছেছে। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে অনেক জায়গায়। স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে; শীতের তীব্রতায় রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড়: ঝুঁকিতে শিশু ও বৃদ্ধরা

তীব্র ঠান্ডার সমান্তরালে দেশজুড়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগবালাইয়ের প্রকোপ। হাসপাতালগুলোর আউটডোরে শ্বাসকষ্ট (Respiratory Issues), নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত রোগীদের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা এই প্রতিকূল আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি 'Vulnerable' বা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন। হাসপাতালগুলোর ইনডোর শয্যা সংখ্যার তুলনায় রোগীর চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। চিকিৎসকরা এই সময়ে শিশুদের বাড়তি যত্ন নেওয়া এবং গরম তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস ও সতর্কতা

আবহাওয়া অধিদফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ওপর দিয়ে যে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তা আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা হিমেল বাতাসের গতিবেগ বাড়লে শীতের অনুভূতি আরও প্রকট হবে। ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌ-পথে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে ‘Visibility’ বা দৃশ্যমানতা কমে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। চালকদের ফগ লাইট ব্যবহার এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের (Climate Change) প্রভাবে ঋতুচক্রের এই আকস্মিক পরিবর্তন কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আলোচনা। তবে আপাতত সাধারণ মানুষের অপেক্ষা এক চিলতে উষ্ণ রোদের জন্য, যা এই স্থবির হয়ে পড়া জীবনে আবার গতি ফিরিয়ে আনবে।

Tags: temperature drop bangladesh weather cold wave meteorological department winter update health alert north bengal shailtya probaho hospital rush climate impact