আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (T20 World Cup) ডামাডোল বাজার আগেই বড় ধরনের দুঃসংবাদ এল নিউজিল্যান্ড শিবিরে। কিউই বাহিনীর অন্যতম প্রধান বোলিং অস্ত্র এবং গতিতারকা (Fast Bowler) লকি ফার্গুসনের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর সংশয়। মূলত পেশির চোটের (Muscle Injury) কারণে এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ পরিকল্পনাকে বড় ধরনের সংকটে ফেলতে পারে।
যেভাবে চোটের কবলে কিউই স্পিডস্টার
ঘটনার সূত্রপাত সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট আইএল টি-টোয়েন্টিতে (ILT20)। গত ২১ ডিসেম্বর ডেজার্ট ভাইপার্সের হয়ে এমআই এমিরেটসের বিরুদ্ধে বোলিং করার সময় হঠাৎ অস্বস্তি অনুভব করেন ফার্গুসন। নিজের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলটি করার পর তিনি চোট পাওয়া স্থানে হাত চেপে ধরে দাঁড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সাথে সাথেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ৩৪ বছর বয়সি এই পেসার।
এই চোট এতটাই গুরুতর ছিল যে, টুর্নামেন্টের বাকি অংশে ডেজার্ট ভাইপার্সের হয়ে আর মাঠে নামতে পারেননি তিনি। তাঁর অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্বের ভার তুলে দেওয়া হয় ইংলিশ অলরাউন্ডার স্যাম কারানের হাতে। উল্লেখ্য, টুর্নামেন্টের শুরুতেও একবার চোটজনিত সমস্যায় ভুগেছিলেন তিনি, যা এবার আরও বড় আকার ধারণ করল।
বিগ ব্যাশ ও জাতীয় দল থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কা
আমিরাতের লিগ শেষে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগে (BBL) সিডনি থান্ডারের হয়ে খেলার কথা ছিল ফার্গুসনের। কিন্তু বর্তমান শারীরিক অবস্থার কারণে সেখান থেকেও তিনি ছিটকে গেছেন। বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিগ ব্যাশ খেলে সরাসরি জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিউইরা বিশ্বকাপের আগে ভারতের বিপক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সেই সিরিজেও তাঁর অংশগ্রহণ এখন সুদূরপরাহত।
বিশ্বকাপ মিশন ও কিউইদের দুশ্চিন্তা
নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। হাতে মাত্র এক মাস সময় থাকলেও ফার্গুসন আদৌ পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাবেন কি না, তা নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছে না নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট (NZC)।
ফার্গুসনের বিষয়টি কিউই বোর্ডের জন্য আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর চুক্তিগত পরিস্থিতির কারণে। বর্তমানে বোর্ডের সঙ্গে তাঁর কোনো দীর্ঘমেয়াদি কেন্দ্রীয় চুক্তি (Central Contract) নেই। এছাড়া ২০২৪ সালের নভেম্বরের পর জাতীয় দলের হয়ে তাঁকে আর কোনো আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দেখা যায়নি। দীর্ঘদিন পর যখন তিনি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এই ‘মাসল ইনজুরি’ তাঁকে ছিটকে দেওয়ার উপক্রম করেছে।
টিম কম্বিনেশনে প্রভাব
নিউজিল্যান্ডের পেস আক্রমণে ফার্গুসন কেবল একজন বোলার নন, বরং মধ্যভাগ ও ডেথ ওভারে (Death Overs) উইকেট শিকারি হিসেবে তাঁর বিকল্প পাওয়া কঠিন। নিয়মিত ১৫০ কিমি গতিতে বল করতে পারা এই বোলারকে হারিয়ে ফেললে বিশ্বকাপের রণকৌশলে নিউজিল্যান্ডকে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সবুজ সংকেত নিয়ে ফার্গুসন ভারতের বিমানে উঠতে পারেন কি না।