বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অন্যতম শীর্ষ নেতা ও ঢাকা-১১ আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুম বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন আমাদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা। অন্যায় ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কীভাবে মাথা উঁচু করে লড়াই করতে হয়, সেই আপসহীন পথই তিনি আমাদের দেখিয়েছেন। খালেদা জিয়ার সেই ত্যাগ ও সংগ্রামের আদর্শ ধারণ করেই বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা সোসাইটি এলাকায় আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বেগম খালেদা জিয়ার আরোগ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া এবং দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্দেশ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আদর্শিক লড়াই ও দেশনেত্রীর প্রেরণা
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড. কাইয়ুম দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি গণতন্ত্রের প্রতীক। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কীভাবে আদর্শের পথে অবিচল থাকতে হয়, তিনি তার জীবন্ত উদাহরণ। তার দেখানো পথ অনুসরণ করেই আমরা একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ করব।”
নারীর ক্ষমতায়ন ও টেকসই উন্নয়নের রূপরেখা
ড. কাইয়ুম তার বক্তব্যে দেশের নারী সমাজের উন্নয়ন ও অধিকারের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিএনপি সবসময়ই Women Empowerment বা নারীদের ক্ষমতায়নকে রাজনৈতিক অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, যদি তিনি জনগণের রায়ে সংসদে যাওয়ার সুযোগ পান, তবে নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বিশেষ আইন ও পলিসি প্রণয়ন করবেন।
তিনি আরও যোগ করেন, “নারীরা আমাদের সমাজের অর্ধেক শক্তি। এই বিশাল জনশক্তিকে পিছিয়ে রেখে কোনোভাবেই Sustainable Development বা টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমরা চাই নারীরা কেবল গৃহকর্মে নয়, বরং রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখুক।”
তারেক রহমানের পরিকল্পনা: ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ড. কাইয়ুম বলেন, আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তারেক রহমান ইতিমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচির ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রবর্তনের মাধ্যমে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা বা Social Security নিশ্চিত করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারগুলো বিশেষ আর্থিক সুবিধা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ভর্তুকি পাবে, যা জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভোটের আহ্বান
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ড. এম এ কাইয়ুম আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ভোট দেওয়া নাগরিকের পবিত্র অধিকার। ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দিয়ে আপনাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করুন। একটি Accountability বা জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই দেশে গণতন্ত্রের সুবাতাস ফিরিয়ে আনা সম্ভব।”
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। শীতবস্ত্র বিতরণ শেষে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।