ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তুলে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে নিউইয়র্কের কুখ্যাত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার (এমডিসি) ব্রুকলিনে আটক রাখা হয়েছে। কারাগারটি এতটাই সমস্যাসংকুল যে অতীতে কিছু বিচারক অভিযুক্তদের সেখানে পাঠাতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
কারাগারের পরিচিতি ও বন্দি তালিকা আলজাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে চালু হওয়া এমডিসি ব্রুকলিনে বর্তমানে প্রায় ১,৩০০ বন্দি রয়েছেন। এটি মূলত ম্যানহাটন ও ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে বিচারাধীন আসামিদের জন্য ব্যবহৃত হয়। এখানে অভিযুক্ত গ্যাং সদস্য ও মাদক পাচারকারীদের পাশাপাশি হোয়াইট কলার (White Collar) অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও থাকেন।
যেসব প্রভাবশালী ছিলেন মাদুরোর আগে নিকোলাস মাদুরো প্রথম কোনো দেশের প্রেসিডেন্ট নন, যিনি এই কারাগারে বন্দি হলেন। তাঁর আগে হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজও শত শত টন কোকেন পাচারের মামলায় বিচার চলাকালে একই কারাগারে আটক ছিলেন।
এছাড়াও আলোচিত ক্রিপ্টো (Crypto) উদ্যোক্তা স্যাম ব্যাংকম্যান-ফ্রিড এবং জেফ্রি এপস্টেইনের সহযোগী ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েলও একসময় এখানে আটক ছিলেন। বর্তমানে মেক্সিকোর সিনালোয়া মাদক কার্টেলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইসমাইল 'এল মায়ো' জাম্বাদা গার্সিয়া এবং ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের সিইও হত্যার অভিযুক্ত লুইজি ম্যাঙ্গিওনেও এখানে আটক আছেন।
সহিংসতা ও অমানবিক পরিবেশের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বন্দি ও তাদের আইনজীবীরা এমডিসি ব্রুকলিনের পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ করে আসছেন। অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে সহিংসতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং অমানবিক পরিবেশ। এসব গুরুতর অভিযোগের কারণে কারাগারটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপকভাবে সমালোচিত।