আসন্ন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে টানাপোড়েন এখন তুঙ্গে। নিরাপত্তা অজুহাতে ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। এই পরিস্থিতিতে ভেন্যু পরিবর্তন হবে নাকি বাংলাদেশ পয়েন্ট হারাবে, তা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
বিসিবির দাবি ও বর্তমান পরিস্থিতি বিসিবি ইতিমধ্যে আইসিসির কাছে আবেদন করেছে যাতে তাদের নির্ধারিত চারটি ম্যাচ ভারতের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম ‘ক্রিকবাজ’-এর তথ্যমতে, আইসিসি বাংলাদেশের এই আবেদন ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করতে পারে। তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) বলছে, হোটেল বুকিং থেকে ব্রডকাস্ট—সব লজিস্টিক প্রস্তুত হয়ে যাওয়ায় এই মুহূর্তে সূচি পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব।
অতীতের ‘ওয়াকওভার’ ও আইসিসির ইতিহাস যদি আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তন না করে এবং বাংলাদেশ মাঠে না নামে, তবে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিপক্ষ দল ‘ওয়াকওভার’ বা বিনা লড়াইয়ে পূর্ণ পয়েন্ট পাবে। ক্রিকেট ইতিহাসে এমন উদাহরণ বিরল নয়:
- ১৯৯৬ বিশ্বকাপ: নিরাপত্তা ঝুঁকিতে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ শ্রীলঙ্কায় খেলতে না যাওয়ায় শ্রীলঙ্কাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল।
- ২০০৩ বিশ্বকাপ: রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ইংল্যান্ড জিম্বাবুয়েতে এবং নিউজিল্যান্ড কেনিয়াতে খেলতে না যাওয়ায় প্রতিপক্ষ দলগুলো ওয়াকওভার পয়েন্ট পেয়েছিল।
- ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: ভিসা জটিলতা ও অভ্যন্তরীণ কারণে জিম্বাবুয়ে নাম প্রত্যাহার করলে আইসিসি তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেয়।
দ্বিপাক্ষিক সিরিজের ওপর কালো মেঘ এই অচলাবস্থার প্রভাব কেবল বিশ্বকাপে সীমাবদ্ধ নেই। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতের বাংলাদেশ সফর হওয়ার কথা ছিল, যা এখন অনিশ্চিত। এছাড়া আগামী বছর বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় এশিয়া কাপেও ভারত আসতে না চাইলে সেটিও ‘হাইব্রিড মডেলে’ সরিয়ে নিতে হতে পারে। এমনকি ২০৩১ সালের যৌথ আয়োজক হিসেবে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ভাগ্যও এখন সুতোয় ঝুলছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আইসিসি সাধারণত শেষ মুহূর্তে সূচি পরিবর্তন করে না। তবে পাকিস্তান তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় খেলবে—এমন সিদ্ধান্ত আগেই হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আইসিসি নমনীয় হয় নাকি ২০২৬ বিশ্বকাপের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যায়।