কারাকাসে রক্তক্ষয়ী মার্কিন অভিযান
লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে লক্ষ্য করে এক দুঃসাহসিক ও বিতর্কিত সামরিক অভিযান চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই Special Operation-এ নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ভেনেজুয়েলার সৈন্য ছাড়াও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাধারণ নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে জনৈক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রোববার (৪ জানুয়ারি) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর বড় বিপর্যয় ও বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি
ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ এই হামলার ভয়াবহতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মার্কিন বাহিনীর এই আকস্মিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট মাদুরোর নিরাপত্তা বাহিনীর একটি ‘বিশাল অংশ’ প্রাণ হারিয়েছে। যদিও তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা উল্লেখ করেননি, তবে দেশটির প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অভিযোগ—মার্কিন বাহিনী কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তু নয়, বরং জনবহুল বেসামরিক এলাকাগুলোতেও নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে। ভেনেজুয়েলা সরকার এই অভিযানকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে দাবি করছে।
কিউবান সেনাদের প্রাণহানি ও রাষ্ট্রীয় শোক
এই অভিযানে ভেনেজুয়েলার পাশাপাশি মিত্র দেশ কিউবার ওপরও বড় আঘাত এসেছে। কিউবার সরকারি সূত্র অনুযায়ী, অভিযানে তাদের ৩২ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক Military Personnel বা সামরিক সদস্য রয়েছেন। এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ-ক্যানেল। তিনি ৫ এবং ৬ জানুয়ারি কিউবায় রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। ডিয়াজ-ক্যানেল বলেন, "আমাদের দেশপ্রেমিকরা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে লড়াই করেছেন এবং আক্রমণকারীদের সরাসরি প্রতিরোধ করতে গিয়ে অথবা বিমান হামলায় শহীদ হয়েছেন।"
কারাকাসের তীব্র নিন্দা: 'অপরাধমূলক হামলা'
মার্কিন এই পদক্ষেপকে ‘অপরাধমূলক এবং কুখ্যাত’ (Criminal and Notorious) আক্রমণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল পিন্টো। তিনি নিহত কিউবান নাগরিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তারা ভেনেজুয়েলায় একটি নির্দিষ্ট Defense Mission বা প্রতিরক্ষা মিশনের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পিন্টো অভিযোগ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে একটি স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে অপহরণের অপচেষ্টা চালিয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য ও ক্ষয়ক্ষতি
অন্যদিকে, এই অভিযান নিয়ে ওয়াশিংটনের সুর কিছুটা ভিন্ন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই অভিযানে কোনো আমেরিকান সেনার মৃত্যু হয়নি। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, মাঠ পর্যায়ে সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে ধরার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত এই ‘হাই-স্টেক’ মিশনে অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার শঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনার ফলে দক্ষিণ গোলার্ধের ভূ-রাজনীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত বা অপহরণ করার এই সরাসরি চেষ্টা ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যকার বৈরী সম্পর্ককে এক চূড়ান্ত সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। আপাতত সারা বিশ্বের নজর এখন কারাকাসের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়ার দিকে।