লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এখন একটি পরিশুদ্ধ রাজনৈতিক দল। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক চর্চার মাধ্যমে জামায়াত নিজেদের অতীতের ভুল সংশোধন করে একটি দেশপ্রেমিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
নির্বাচনী নতুন মেরুকরণ
সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এলডিপির নির্বাচনী আসন সমঝোতার পর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে কর্নেল অলি জানান, তারা জামায়াতে যোগ দেননি এবং জামায়াতও এলডিপিতে যোগ দেয়নি; বরং বৃহত্তর স্বার্থে তারা একটি কৌশলগত ঐক্য বা নির্বাচনী সমঝোতায় পৌঁছেছেন। মূলত দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার তাগিদ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও অবমূল্যায়ন
দীর্ঘদিনের মিত্র বিএনপিকে ছেড়ে কেন জামায়াতের সঙ্গে হাত মেলালেন—এমন প্রশ্নের জবাবে কর্নেল অলি তার ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে বিএনপি এলডিপিকে চরমভাবে অবমূল্যায়ন করেছে। তিনি বলেন, “আমরা ১৪ জন প্রার্থীর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দিয়েছিলাম, কিন্তু বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি আমাদের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকই করেনি। ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে রাখা হলেও তারা কার্যকর কোনো আলোচনা করেনি।”
পরিশুদ্ধ জামায়াত প্রসঙ্গ
জামায়াতকে ‘পরিশুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান নেতৃত্ব অনেক বেশি পরিপক্ক এবং তারা দেশের সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে তাদের ভূমিকা ও শৃঙ্খলা প্রশংসার দাবি রাখে। কর্নেল অলি মনে করেন, জামায়াতকে নিয়ে অহেতুক বিতর্ক করার সময় এখন আর নেই।
আগামী দিনের লক্ষ্য
কর্নেল অলি আরও জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এলডিপি ও জামায়াত একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। তিনি বিশ্বাস করেন, এই জোট সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং একটি জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে। অলি আহমদের এই বক্তব্য বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।