গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৫০ জন নেতাকর্মী দলীয় পদ-পদবি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে স্থানীয় ইউনিয়নগুলোতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা এই ঘোষণা দেন। পদত্যাগকারী নেতাকর্মীদের মধ্যে মুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর, ভাবড়াশুর ও বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ রয়েছেন।
একযোগে গণপদত্যাগ জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে মুকসুদপুরের ভাবড়াশুর ইউনিয়ন থেকে ১৭ জন এবং বাঁশবাড়ীয়া ও অন্যান্য এলাকা থেকে আরও ৩২ জনসহ মোট ৫০ জন নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের সব ধরনের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। পদত্যাগকারীদের তালিকায় ইউনিয়ন পর্যায়ের সহসভাপতি, সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরাও রয়েছেন।
নেতাকর্মীদের ঘোষণা পদত্যাগকারী নেতারা তাদের লিখিত বক্তব্যে জানান, ‘আজ থেকে আওয়ামী লীগের সব প্রকার পদ-পদবি থেকে আমরা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলাম। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।’
তালিকায় যারা রয়েছেন পদত্যাগকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মহারাজপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বাবুল ফকির, ভাবড়াশুর ইউনিয়নের জগদিশ চন্দ্র বিশ্বাস, সমীর কুমার বিশ্বাস, বিধান চন্দ্র বিশ্বাস, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক গোবিন্দ বিশ্বাস এবং বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের আইন বিষয়ক সম্পাদক অনিল কৃষ্ণ বাইন প্রমুখ। এছাড়া ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে এই পদত্যাগের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মুকসুদপুরের এই গণপদত্যাগ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আইনি জটিলতা ও সামাজিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে তৃণমূলের অনেকেই এখন দলীয় পরিচয় ত্যাগ করছেন।