ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড শিবিরে এখন উৎসবের মেজাজ। কারণ, কোচ রুবেন আমোরিমের আচমকা বরখাস্তের খবরে খেলোয়াড়রা ব্যথিত হননি, বরং ইংলিশ গণমাধ্যম 'ডেইলি মেইল'-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, নয়জন ফুটবলার সরাসরি উল্লাস করেছেন। এদের মধ্যে তরুণ মিডফিল্ডার কোবি মাইনুর উচ্ছ্বাস ছিল সবচেয়ে প্রকট।
মাইনুর কৌতুক ও উল্লাস আমোরিমের বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক কৌতুক (Meme) পোস্ট করে নিজের আনন্দ প্রকাশ করেছেন ইংলিশ মিডফিল্ডার কোবি মাইনু। ২০ বছর বয়সী এই তারকা একটি পোস্টের ক্যাপশনে লেখেন, ‘১০ মিলিয়ন পাউন্ড পাওয়ার পর আমিও হাসব!’ উল্লেখ্য, বরখাস্তের কারণে চুক্তি অনুযায়ী ১০.০৫ মিলিয়ন পাউন্ড (Million Pound) ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন আমোরিম। মাইনুর মতো আরও আটজন খেলোয়াড় কোচকে কোনো বিদায়ী বার্তাও দেননি।
খেলোয়াড়দের ক্ষোভের কারণ ম্যানইউ একাডেমি গ্র্যাজুয়েট কোবি মাইনুকে ক্লাবের মাঝমাঠের ভবিষ্যৎ হিসেবে ধরা হলেও আমোরিম দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রায় দৃষ্টির আড়ালে চলে যান। হোল্ডিং মিডফিল্ডার হিসেবে কোচের প্রথম পছন্দ ছিলেন ক্যাসেমিরো (Casemiro) ও ব্রুনো ফার্নান্দেজ।
শুধু মাইনু নয়, দলের নিয়মিত তারকারাও কোচের কৌশল নিয়ে হতাশ ছিলেন। প্লেমেকার (Playmaker) ব্রুনো ফার্নান্দেজকে ছয় মৌসুম ধরে প্লেমেকার হিসেবে খেললেও আমোরিম তাকে খেলান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার (Defensive Midfielder) হিসেবে। একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন রাইট উইঙ্গার আমাদ দিয়ালো, যাকে কোচ রাইটব্যাক (Rightback) বানিয়ে দেন। ফলস্বরূপ, দলের ভেতরেই আমোরিমের প্রতি চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।
যারা শুভেচ্ছা জানাননি কোবি মাইনু ছাড়া আরও আটজন খেলোয়াড় প্রকাশ্যে বা গোপনে বরখাস্ত হওয়া কোচকে শুভকামনা জানাননি। এই তালিকায় আছেন তিন গোলরক্ষক আলতাই বায়েনদির, সানে লেমেন্স ও টম হিটন; ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, টাইরেল মালাসিয়া, নওসারি মাজরাউয়ি এবং ফরোয়ার্ড চিদো ওবি ও ম্যানুয়েল উগার্তে। আমোরিমের বিদায়ের মধ্য দিয়ে এই খেলোয়াড়দের দলে ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলো।