• রাজনীতি
  • ঋণখেলাপি হয়েও নির্বাচনে লড়বেন ৩১ প্রার্থী: আদালতের আদেশে মনোনয়ন বৈধ

ঋণখেলাপি হয়েও নির্বাচনে লড়বেন ৩১ প্রার্থী: আদালতের আদেশে মনোনয়ন বৈধ

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনে চিহ্নিত ঋণখেলাপি ৩১ জন প্রার্থী উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে লড়ার বৈধতা পেলেন।

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
ঋণখেলাপি হয়েও নির্বাচনে লড়বেন ৩১ প্রার্থী: আদালতের আদেশে মনোনয়ন বৈধ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপি হওয়ার গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ৩১ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরোর (সিআইবি) প্রতিবেদনে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত এই প্রার্থীরা উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে বাছাইয়ে টিকে গেছেন। তবে, একই অভিযোগে ৮২ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।

ঋণখেলাপি প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি: আইনি সুরক্ষা

এবারের সংসদ নির্বাচনে সারা দেশের ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৫৬৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে বাছাইয়ে ঋণখেলাপির কারণে বাতিল হয়েছে ৮২ জনের প্রার্থিতা। এদের মধ্যে ২৮ জন স্বতন্ত্র, তিনজন বিএনপি এবং দুজন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। জাতীয় পার্টি, সিপিবি, এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরাও এই তালিকায় আছেন। সিআইবির তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করে।

অন্যদিকে, উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ পাওয়ায় ৩১ জন ঋণখেলাপি প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে। আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) অনুযায়ী, কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। তবে, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে সংশোধিত আরপিওতে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও কোনো ব্যক্তির খেলাপির সত্যতা প্রমাণিত হলে তিনি পদ হারাতে পারেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

বাছাই প্রক্রিয়া ও আপিল

গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে ৬৯টি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে ঋণখেলাপি ও অন্যান্য কারণসহ মোট ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হলেও ১ হাজার ৮৪২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে বিবেচিত হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর তালিকা

উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে বৈধতা পাওয়া ৩১ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সংখ্যা ১৫ জন। এর মধ্যে রয়েছেন—বগুড়া-১ এর কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-৫ এর গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, টাঙ্গাইল-৪ এর মো. লুৎফর রহমান, ময়মনসিংহ-৫ এর মোহাম্মদ জাকির হোসেন, গাজীপুর-৪ এর শাহ রিয়াজুল হান্নান, মৌলভীবাজার-৪ এর মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, কুমিল্লা-৪ এর মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, কুমিল্লা-৭ এর রেদোয়ান আহমেদ, কুমিল্লা-৯ এর মো. আবুল কালাম, চট্টগ্রাম-২ এর সরোয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৪ এর মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৬ এর গোলাম আকবর খোন্দকার ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ এর মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী এবং সিলেট-১ থেকে খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। এছাড়াও, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২ এবং ঢাকা-১৮ আসনে এই তালিকায় রয়েছেন।

স্বতন্ত্র ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন যশোর-৫ এর মো. কামরুজ্জামান, ময়মনসিংহ-১০ এর মো. মুশফিকুর রহমান, ময়মনসিংহ-১১ এর মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ এর এসএকে একরামুজ্জামান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ এর কাজী নাজমুল হোসেন, কুমিল্লা-৯ এর ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক, চাঁদপুর-২ এর তানভীর হুদা, চট্টগ্রাম-৫ এর এসএম ফজলুল হক, নোয়াখালী-২ এর কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমান, সিলেট-৩ এর মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী এবং সিলেট-৫ থেকে মামুনুর রশীদ।

অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় পার্টির এসএম আব্দুল মান্নান (মানিকগঞ্জ-২), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুজিবুর রহমান শামীম (বাগেরহাট-১), এবং বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মোহাম্মদ আলী (নারায়ণগঞ্জ-৪) এই তালিকায় রয়েছেন।

Tags: bangladesh bank election bangladesh politics rpo candidate loan-default