বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সহসম্পাদক এবং রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হলে জনগণ তা মেনে নেবে না। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত মানুষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার পতন ঘটিয়েছে।
দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীর পবা উপজেলার হুজুরীপাড়া এলাকাবাসীর আয়োজনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মিলন আরও বলেন, যে নেত্রীকে নিয়ে আজ আলোচনা করছি, তিনি ত্যাগের মহিমায় আলোকিত হয়ে ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ শফিকুল হক মিলন বেগম খালেদা জিয়ার পারিবারিক ও রাজনৈতিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৪৫ সালে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়া অল্প বয়সেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং যুদ্ধকালীন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়াকে সন্তানসহ পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আটক হতে হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভূমিকার কথা শহীদ জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির হাল ধরেন উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং ১৯৯১ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি নারী শিক্ষা অবৈতনিক করা, নারীদের স্বাবলম্বী করতে পদক্ষেপ নেওয়া, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় গঠন এবং বয়স্ক ও বিধবা ভাতা চালুর মতো যুগান্তকারী কাজের কথাও স্মরণ করেন।
কারাবাস নিয়ে অভিযোগ মিলন অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে দীর্ঘদিন কারাবন্দি রেখে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছেন। কারাগারে সঠিক চিকিৎসা না দেওয়া এবং বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ না দেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শিহাব উদ্দিন এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব মোজাহার আলী। পরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।