বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলটির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার দ্বৈত নাগরিকত্ব (Dual Citizenship) নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এহতেশাম হক। একই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে নিজের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’ ও ‘বৈষম্যমূলক আচরণের’ অভিযোগ করেছেন এই যুক্তরাজ্যপ্রবাসী নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ মঙ্গলবার সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এহতেশাম হক এই অভিযোগ তোলেন। তিনি এনসিপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সিলেট-১ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, তারেকের মতো বড় নেতা এবং ফেনীর বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ক্ষেত্রে প্রশাসন নমনীয়তা দেখালেও তার ক্ষেত্রে কঠোরভাবে আইনের প্রয়োগ করা হয়েছে।
তারেক রহমানের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব প্রসঙ্গ এহতেশাম হক প্রশ্ন তোলেন, "যেখানে আমাকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কেন প্রশ্ন উঠছে না সদ্য বিদেশ (লন্ডন) ফেরত তারেক রহমানকে নিয়ে?"। তিনি আরও বলেন, অনলাইন এভিডেন্সে দেখা গেছে যে তারেক রহমান কোম্পানি হাউসে নিজেকে ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানতে চান, এ বিষয়ে কেন কোনো প্রশ্ন তোলা হচ্ছে না।
অন্যান্য নেতার ক্ষেত্রে নমনীয়তা এহতেশাম অভিযোগ করেন, বিএনপির আরেক বড় নেতা ও অর্থের জোগানদাতা আবদুল আউয়াল মিন্টু তাঁর আবেদনে নিজেকে 'দ্বৈত নাগরিক' হিসেবে উল্লেখ করার পরও ফেনীর রিটার্নিং অফিসার তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন এবং কোনো প্রশ্ন তোলেননি।
রিটার্নিং কর্মকর্তার জবাব ও পাল্টা যুক্তি মনোনয়নপত্র বাতিলের ঘটনা বর্ণনা করে এহতেশাম অভিযোগ করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁকে যথাযথ কাগজপত্র জমা দিতে না পারার কারণ দেখিয়ে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। অথচ, একই কারণে সিলেট-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী এম এ মালিকের মনোনয়নপত্র হোম অফিস বন্ধের কথা বলে শর্তসাপেক্ষে বৈধ ঘোষণা করা হয়। এ বিষয়ে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলম বৈষম্যের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, এম এ মালিক হোম অফিসের একটি সার্টিফিকেট জমা দিয়েছিলেন এবং যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন হওয়ায় শর্তসাপেক্ষে বৈধ করা হয়। তিনি এহতেশাম হকের কোনো সার্টিফিকেট জমা না দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং বলেন, "আমরা কোথাও কোনোভাবে বৈষম্য দেখাইনি।"