সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (CPD) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) ব্যবহার করে সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এই বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে।
প্রযুক্তি ও গণতান্ত্রিক দুর্বলতা ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সরাসরি উল্লেখ করেন যে, AI-এর মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহিংসতা ছড়ানো হচ্ছে, যা সরকার প্রতিরোধ করতে পারছে না। তিনি বাংলাদেশের ডিজিটাল স্পেসে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার বিষয়টিকে সামনে এনে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকারের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো অপ্রতুল।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা তিনি জোর দেন যে, শুধু আইন তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কতটা দক্ষতার সঙ্গে ও নিরপেক্ষভাবে এই আইন প্রয়োগ করতে পারছে। তিনি আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মানবাধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা সিপিডি'র এই বিশেষ ফেলো বলেন, একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে সরকার তার যথাযথ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে সরকারের দুর্বলতা ও সক্ষমতার অভাবের দিকটি স্পষ্ট করে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার সাধারণ নাগরিকদের সামাজিক সুরক্ষা দিতে পারছে না এবং এই বিষয়ে জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে।
সরকারের প্রতি আহ্বান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সরকারকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি।