আসন্ন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট (NZC)। অভিজ্ঞ এবং তারুণ্যের মিশেলে গড়া এই দলে বড় চমক হিসেবে দেখা দিয়েছে দুই তারকা পেসার লকি ফার্গুসন ও ম্যাট হেনরির অন্তর্ভুক্তি। তবে স্কোয়াডে জায়গা পেলেও টুর্নামেন্টের মাঝপথে তাদের পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় অর্থাৎ 'পিতৃত্বকালীন ছুটি' বা Paternity Leave-এর কারণে টুর্নামেন্টের একটি নির্দিষ্ট সময়ে তারা মাঠের বাইরে থাকতে পারেন।
চোট সারিয়ে স্কোয়াডে তারকার মেলা
কিউই সমর্থকদের জন্য স্বস্তির খবর হলো, দীর্ঘদিনের ইনজুরি কাটিয়ে স্কোয়াডে ফিরেছেন লকি ফার্গুসন ও ম্যাট হেনরি। বিশেষ করে কাফ ইনজুরির কারণে ২০২৪ সালের নভেম্বরের পর থেকে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামা হয়নি ফার্গুসনের। দীর্ঘ বিরতির পর এই Tech Giant পেসারের ফিরে আসা দলের বোলিং ইউনিটের ধার বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। শুধু এই দুজনই নন, চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন ওপেনার ফিন অ্যালেন (আঙুল ও হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি), মার্ক চ্যাপম্যান (অ্যাঙ্কল ইনজুরি) এবং অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার (অ্যাবডাক্টর ইনজুরি)।
নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "চোটাক্রান্ত প্রত্যেক ক্রিকেটার বর্তমানে তাদের রিহ্যাবিলিটেশন ও নির্দিষ্ট ট্রেনিং প্ল্যানের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তারা শতভাগ ফিটনেস ফিরে পাবেন বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী।"
মাঝপথে পিতৃত্বকালীন ছুটির সম্ভাবনা
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে স্কোয়াড ঘোষণার পাশাপাশি একটি ভিন্নধর্মী তথ্যও শেয়ার করেছে এনজেডসি। ফার্গুসন ও ম্যাট হেনরির সঙ্গিনীদের সন্তান জন্মের সম্ভাব্য সময় বিশ্বকাপের সূচির সঙ্গে মিলে যাওয়ায়, তাদের স্বল্পমেয়াদী ছুটির অনুমতি দেওয়া হতে পারে। এই মানবিক সিদ্ধান্তটি ক্রিকেটারদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করেই নেওয়া হয়েছে, যা আধুনিক স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের একটি বড় অংশ। তবে তাদের সাময়িক অনুপস্থিতিতে দলের বোলিং আক্রমণে ব্যাক-আপ হিসেবে কারা দায়িত্ব নেবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের ভারসাম্য
২০২৬-এর এই অভিযানে নিউজিল্যান্ড ভরসা রাখছে অভিজ্ঞ অ্যাডাম মিলনে এবং হার্ডহিটিং অলরাউন্ডার জেমস নিশামের ওপর। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে ডাক পেয়েছেন প্রতিশ্রুতিশীল বোলার জ্যাকব ডাফি। অন্যদিকে, ইনজুরি থেকে ফেরার লড়াইয়ে থাকা কাইল জেমিসনকে রাখা হয়েছে ‘ট্রাভেলিং রিজার্ভ’ হিসেবে।
তবে কপাল পুড়েছে উদীয়মান ব্যাটার টিম রবিনসনের। গত অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেও জায়গা পাননি তিনি। মূলত কিউইদের Top Order-এ ফিন অ্যালেন, ডেভন কনওয়ে ও রাচিন রবীন্দ্রর মতো তারকাদের ভিড়ে রবিনসনের জন্য জায়গা বের করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। কিপিং গ্লাভস হাতে মূল দায়িত্ব পালন করবেন টিম সেইফার্ট, যেখানে ব্যাক-আপ হিসেবে প্রস্তুত থাকবেন কনওয়ে।
উপমহাদেশের কন্ডিশন ও রণকৌশল
নিউজিল্যান্ডের প্রধান কোচ রব ওয়াল্টার স্কোয়াডের গভীরতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "স্কোয়াড ব্যালেন্স বজায় রাখা সবসময়ই আমাদের অগ্রাধিকার। আমাদের ব্যাটিং লাইন-আপে যেমন বিধ্বংসী ক্ষমতা আছে, তেমনি বোলিংয়ে আছে কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা। পাঁচজন দক্ষ All-rounder আমাদের দলের ভারসাম্যকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "আমাদের ক্রিকেটাররা উপমহাদেশে খেলার ব্যাপারে যথেষ্ট অভিজ্ঞ। এই বিশেষ অভিজ্ঞতা টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমাদের বড় অ্যাডভান্টেজ দেবে।"
বিশ্বকাপের রোডম্যাপ ও গ্রুপ বিন্যাস
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড খেলবে 'গ্রুপ ডি'-তে। যেখানে তাদের সঙ্গী হিসেবে রয়েছে আফগানিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ের এম. এ. চিদম্বরম স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে কিউইদের বিশ্বকাপ মিশন।
বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ভারতের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলবে নিউজিল্যান্ড। যেখানে তিনটি ওয়ানডে (ODI) এবং পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজে নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতা ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে স্যান্টনার বাহিনী।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য নিউজিল্যান্ড স্কোয়াড:
মিচেল স্যান্টনার (অধিনায়ক), ফিন অ্যালেন, মাইকেল ব্রেসওয়েল, মার্ক চ্যাপম্যান, ডেভন কনওয়ে, জ্যাকব ডাফি, লকি ফার্গুসন, ম্যাট হেনরি, ড্যারিল মিচেল, অ্যাডাম মিলনে, জেমস নিশাম, গ্লেন ফিলিপস, রাচিন রবীন্দ্র, টিম সেইফার্ট ও ইশ সোধি।
ট্রাভেলিং রিজার্ভ: কাইল জেমিসন।