• রাজনীতি
  • কোনো পরাশক্তিই দেশকে বিরাজনীতিকরণ করতে পারবে না: মঈন খান

কোনো পরাশক্তিই দেশকে বিরাজনীতিকরণ করতে পারবে না: মঈন খান

বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দেন ড. আব্দুল মঈন খান।

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
কোনো পরাশক্তিই দেশকে বিরাজনীতিকরণ করতে পারবে না: মঈন খান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান মন্তব্য করেছেন যে, কোনো শক্তি বা পরাশক্তিই বাংলাদেশকে রাজনীতিশূন্য করতে পারবে না। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, বাংলাদেশের মানুষের রক্তে রাজনীতি ও গণতন্ত্র মিশে আছে, তাই এ দেশকে বিরাজনীতিকরণ করা অসম্ভব। বুধবার (৭ জানুয়ারি) জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত এক শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

বিরাজনীতিকরণের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি

ড. মঈন খান তাঁর বক্তব্যে ২০০৮ সালের নির্বাচনকে 'সাজানো নির্বাচন' হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শক্তির সমন্বয়ে এই নির্বাচনটি আয়োজন করা হয়েছিল। সেই নির্বাচনে এমন একটি শক্তি কাজ করেছিল, যারা বাংলাদেশকে রাজনীতিশূন্য করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

খালেদা জিয়ার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ও সংগ্রাম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা ছিল 'আকাশচুম্বী' উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, প্রতিটি নির্বাচনে সবকটি আসনে জয়ী হয়ে তিনি জনগণের ভালোবাসা ও জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ধারক ও বাহক হিসেবে তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।

মঈন খান আরও বলেন, ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বেগম জিয়া শুধু নির্যাতন-নিপীড়নেরই শিকার হননি, তাঁকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। এ সত্ত্বেও তিনি সবকিছু সহ্য করে গেছেন। তিনি নিয়মের মাধ্যমেই প্রমাণ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন যে—এসব মামলা মিথ্যা, তিনি নির্দোষ। জনগণের কাছেও সেই সত্য স্পষ্ট হয়েছে।

৫ আগস্টের জয় ও স্বৈরতন্ত্রের পরাজয়

তিনি বলেন, অবশেষে চব্বিশের ৫ আগস্ট জনগণের জয় হয়েছে। যারা বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে, দেশে গণতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করেছিল এবং যারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি দাবি করেও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও নীতির বিরুদ্ধে কাজ করেছিল, তাদের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। এর মাধ্যমেই প্রমাণ হয়েছে যে খালেদা জিয়াই সত্য।

গ্রামীণ উন্নয়নে খালেদা জিয়ার অবদান

ড. মঈন খান খালেদা জিয়ার শাসনামলের (১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬) কথা স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থানীয় পর্যায়ে রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ ছিল দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। গ্রামীণ উন্নয়নের মূল কারিগর ছিলেন খালেদা জিয়া। তিনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে দেশের উন্নয়ন রাজধানী থেকে গ্রামে-গঞ্জে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এরই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান বিএনপির নেতৃত্বে বাংলাদেশকে বিশ্বে উন্নত ও সম্মানজনক জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।

শোকসভা ও মোনাজাত

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও জাগপার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে এবং জোটের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এস এম শাহাদাতের সঞ্চালনায় শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে আরও বক্তব্য দেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড ডা. সৈয়দ নুরুল ইসলাম, এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান এমএন শাওন সাদেকীসহ আরও অনেকে। আলোচনা শেষে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

Tags: tarique rahman bnp bangladesh politics democracy khaleda zia dr. abdul moyeen khan despoliticization