• রাজনীতি
  • নির্বাচনী হলফনামায় আয় ও সম্পদ নিয়ে বিভ্রান্তি: অপপ্রচারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন নাহিদ ইসলাম

নির্বাচনী হলফনামায় আয় ও সম্পদ নিয়ে বিভ্রান্তি: অপপ্রচারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তার নির্বাচনী হলফনামায় উল্লিখিত বার্ষিক আয় ১৬ লাখ টাকা এবং মোট সম্পদ ৩২ লাখ টাকা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রতিবাদ করেছেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রতিটি বিষয়ের উৎস ও কারণ ব্যাখ্যা করে স্বচ্ছতা তুলে ধরেন।

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
নির্বাচনী হলফনামায় আয় ও সম্পদ নিয়ে বিভ্রান্তি: অপপ্রচারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন নাহিদ ইসলাম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় নিজের বার্ষিক আয় ও সম্পদের তথ্য নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি বিস্তারিত পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই বিভ্রান্তির জবাব দেন। তিনি দাবি করেন, এই অপপ্রচার একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদকে সন্দেহের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর একটি রাজনৈতিক প্রয়াস মাত্র।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনী হলফনামায় নিজের আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত পোস্ট দেন।

অপপ্রচারের জবাব ও স্বচ্ছতার দাবি নাহিদ ইসলাম তার পোস্টে স্পষ্ট করে বলেন, তার নির্বাচনী হলফনামার তথ্য নিয়ে যে অপপ্রচার চলছে, তা সত্য উদঘাটনের চেয়ে একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদকে প্রশ্নবিদ্ধ করার রাজনৈতিক প্রয়াস। তিনি তার আয় ও সম্পদের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

বাৎসরিক আয় সংক্রান্ত ব্যাখ্যা নাহিদ ইসলাম বাৎসরিক আয় নিয়ে ছড়ানো বিভ্রান্তি 'সম্পূর্ণ ভুল ধারণা' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। হলফনামায় উল্লিখিত ১৬ লাখ টাকার বাৎসরিক আয় কোনো নির্দিষ্ট চাকরি ছাড়ার পর হঠাৎ অর্জিত অর্থ নয়। এটি ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ৩০ জুন) মোট আয়ের হিসাব। এই অর্থের প্রায় ১১ লাখ টাকাই তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত বেতন–ভাতা হিসেবে ব্যাংক চ্যানেলে পেয়েছেন, যা আয়করযোগ্য ও নথিভুক্ত। বাকি অংশ এসেছে উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কনসালটেন্ট বা পরামর্শক হিসেবে বৈধ পেশাগত কাজের সম্মানী থেকে, যারও সুস্পষ্ট কর হিসাব রয়েছে।

মোট সম্পদের হিসাব নাহিদ ইসলামের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩২ লাখ টাকা। তিনি স্পষ্ট করেন যে মোট সম্পদ এক বছরের আয় নয়, বরং ২৭ বছরের জীবনের সঞ্চয়ের সমষ্টি। এই সঞ্চয়ের মধ্যে উপদেষ্টা পদের বেতনের সেভিংস, পূর্ববর্তী সেভিংস, পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে পাওয়া উপহার, স্বর্ণালংকারের মূল্য, ফার্নিচার এবং ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্যের সমষ্টি অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি, পদত্যাগের পর আয়কর পরিশোধিত ইনকামও এর মধ্যে রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই মোট সম্পদের তথ্য সম্পূর্ণ সত্য ও 'একুরেট'।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও অন্যান্য সম্পত্তি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিয়েও যে অপপ্রচার চলছে, তা তথ্যের অপব্যবহার ছাড়া কিছু নয় বলে তিনি মনে করেন। উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের সময় তার অ্যাকাউন্টে প্রায় ১০ হাজার টাকা অবশিষ্ট ছিল, যা মোট সম্পদের প্রতিফলন ছিল না। পরবর্তীতে সরকারিভাবে মন্ত্রীদের আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ অর্থ একই অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ায় ব্যালেন্স বৃদ্ধি পায়, যা হলফনামায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। বর্তমানে তার মাত্র দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে—একটি সোনালী ব্যাংকে এবং অন্যটি নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য সিটি ব্যাংকে খোলা। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে উপদেষ্টা পদে থাকা অবস্থায় বা পদত্যাগের পরেও তার কোনো জমি, ফ্ল্যাট বা গাড়ি নেই, যা হলফনামায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পেশা নিয়ে বিভ্রান্তি নিরসন পেশা সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকেও নাহিদ ইসলাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন। হলফনামায় কোথাও তার পেশা হিসেবে শিক্ষকতা উল্লেখ করা হয়নি। তার পূর্ববর্তী পেশা ছিল সরকারের উপদেষ্টা এবং বর্তমান পেশা হিসেবে 'কনসালট্যান্সি' বা পরামর্শক উল্লেখ রয়েছে, যা একটি স্বীকৃত ও বৈধ পেশা। তিনি একটি টেক ফার্মে স্ট্র্যাটেজিক ও পলিসি সিদ্ধান্তে পরামর্শ দেন এবং এই প্রতিষ্ঠানের নাম নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা নথিতেও আছে। তিনি নিশ্চিত করেন, উক্ত প্রতিষ্ঠান কোনো সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত নয় এবং তার যুক্ত থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানটি কখনোই কোনো সরকারি সুবিধা পায়নি।

স্বচ্ছতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত তার প্রতিটি তথ্য আয়কর রিটার্ন এবং নির্বাচনী হলফনামার মাধ্যমে আইনগতভাবে যাচাইযোগ্য। তিনি স্বচ্ছভাবে সবকিছু ঘোষণা করেছেন। তবে এই স্পষ্ট ও পৃথক ক্যাটাগরিগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে গুলিয়ে দিয়ে একটি অসৎ রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করার চেষ্টা চলছে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “এই দেশে সত্য বলা অনেক সময় অপরাধে পরিণত হয়। যত বেশি স্বচ্ছতা দেখানো হয়, তত বেশি কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়”। তার সীমিত সম্পদ ও স্বচ্ছ আয়ের ঘোষণা প্রমাণ করে যে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার বা অবৈধ সম্পদ সঞ্চয়ের রাজনীতির বাইরে থেকেই দায়িত্ব পালন করেছেন—যা অপপ্রচারের মূল অস্বস্তির জায়গা।

Tags: politics ncp নাহিদ ইসলাম election affidavit annual income assets propaganda