রাজধানীর মিরপুর ও কাফরুল এলাকায় অপরাধ জগতের এক পর্দার অন্তরালের কারিগর মাহমুদুর রহমান খান ওরফে সনিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৪)। গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) গভীর রাতে কাফরুল থানাধীন সেনপাড়া এলাকার একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে অত্যাধুনিক বিদেশি পিস্তল ও তাজা গুলিসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
খাটের নিচেই ছিল মারণাস্ত্রের মজুদ
র্যাব-৪ এর পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দেশব্যাপী ‘Special Drive’ পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় র্যাবের আভিযানিক দল। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে বাসার মালিক মাহমুদুর রহমান সনি কৌশলে পালানোর চেষ্টা করলেও চৌকস বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শোয়ার খাটের নিচে লুকানো একটি ব্যাগ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ৬ রাউন্ড তাজা গুলি, এক রাউন্ড গুলির খোসা এবং একটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র জব্দ করা হয়।
ভাড়ায় মিলত অস্ত্র: সনির চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার সনি স্বীকার করেছেন যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর, কাফরুল ও দারুসসালামসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন। কেবল নিজের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেই নয়, বরং পেশাদার খুনি এবং চাঁদাবাজদের কাছে ‘Arms Rental’ বা ভাড়ায় অস্ত্র সরবরাহ করা ছিল তার মূল আয়ের উৎস। তার সরবরাহকৃত এই ‘Foreign Pistol’ ও গুলি ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে রাজধানীতে বড় ধরনের সংঘাত, জমি দখল, চাঁদাবাজি এবং ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা ঘটেছে।
নির্বাচন ঘিরে র্যাবের বিশেষ তৎপরতা
র্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে যাতে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার না হতে পারে, সে জন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সনির মতো যারা পর্দার আড়ালে থেকে অপরাধীদের মারণাস্ত্রের জোগান দিচ্ছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। সনির বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগ
একাধিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মতে, সাধারণ এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে খাটের নিচে মারণাস্ত্র রাখা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ধরণের ‘Sleeper Cell’ স্টাইলের অপরাধীরা সমাজের জন্য বড় হুমকি। বিশেষ করে ‘Job Creation’-এর আড়ালে বা সাধারণ পেশার ছদ্মবেশে যারা অবৈধ অস্ত্রের কারবার করছে, তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষেরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
পেশাদার অপরাধীদের এই মূল জোগানদাতাকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে রাজধানীর একটি শক্তিশালী ‘Criminal Syndicate’-এর মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে র্যাব।