গ্রেপ্তার ও র্যাবের বক্তব্য র্যাব-১২ সিরাজগঞ্জ সদর কোম্পানির অপস অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার মো. উসমান গণি বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আসামি সাকিনকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার সাকিন সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার ধানবান্ধি মহল্লার মতির ছেলে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বুধবার দুপুরে র্যাব সদর কোম্পানির একটি চৌকস দল ঢাকার সাভার থানার বিরুলিয়া ইউনিয়নের কালিয়াকৈর এলাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান 'আলফা জোন অ্যান্ড কোম্পানিতে' অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত গত ২৮ ডিসেম্বর বিকেলে সিরাজগঞ্জ শহরের চৌরাস্তা মোড় বাহিরগোলা রোডে প্রকাশ্য দিবালোকে কলেজছাত্র আব্দুর রহমান রিয়াদকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরে রাতে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত রিয়াদ ইসলামিয়া সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যও ছিলেন। তিনি শহরের সয়াধানগড়া খাঁ পাড়া মহল্লার রেজাউল করিমের ছেলে।
সিসিটিভি ফুটেজ ও মামলার বিবরণ হত্যাকাণ্ডটির একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় রিয়াদ একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বসে আছেন। এ সময় বিভিন্ন দিক থেকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কয়েকজন তরুণ এসে অটোরিকশার ভেতরেই রিয়াদকে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহত রিয়াদের বাবা রেজাউল করিম বাদী হয়ে মো. সাকিনকে প্রধান আসামিসহ মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিবরণে রিয়াদের বাবা উল্লেখ করেন, ২৮ ডিসেম্বর বিকেলে চৌরাস্তা মোড় এলাকার একটি ভবনের পাশে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে যান রিয়াদ ও প্রধান আসামি সাকিনসহ ৩৬ জন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রিয়াদ ও তার তিন বন্ধু অটোরিকশায় বসে থাকার সময় পরিকল্পিতভাবে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাকে ঘিরে ধরে গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে প্রধান আসামি সাকিন তার কাছে থাকা বার্মিজ চাইনিজ টিপ চাকু দিয়ে রিয়াদকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। অন্যান্য আসামিরা চাইনিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহার করে কুপিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশের পদক্ষেপ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার সাকিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। তিনি আরও জানান, এই হত্যা মামলার আরও দুই আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।