মেসির নিঃসঙ্গতা ও শান্ত পরিবেশের খোঁজ সাম্প্রতিক এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে মেসি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, তিনি স্বভাবতই একা থাকতে ভালোবাসেন। তাঁর ভাষায়, “আমি একা থাকতে উপভোগ করি। বাড়িতে তিনটা বাচ্চা দৌড়াদৌড়ি করলে অনেক সময় সেটা আমাকে ভীষণভাবে ক্লান্ত করে তোলে।” আর্জেন্টিনার এই অধিনায়ক মাঠে নেতৃত্বের প্রতীক হলেও, ঘরে তিনি শান্ত পরিবেশেই নিজের ভারসাম্য খুঁজে নেন বলে জানিয়েছেন।
শৃঙ্খলা ও রুটিন মেনে চলা জীবন নিজে যে অত্যন্ত গোছানো ও শৃঙ্খলাপরায়ণ, সে কথাও তুলে ধরেছেন মেসি। দৈনন্দিন রুটিনে সামান্য পরিবর্তন হলেই তিনি অস্বস্তিতে পড়েন। তিনি বলেন, “আমি খুব স্ট্রাকচার্ড। দিনের পরিকল্পনা বদলে গেলে মাথা খারাপ হয়ে যায়।” এমনকি কাপড় রং অনুযায়ী সাজানো, ম্যাচের আগের দিন সবকিছু আগেভাগে প্রস্তুত রাখা—এসব অভ্যাসও তাঁর জীবনের অংশ। মেসির বড় ছেলে থিয়াগোও উত্তরাধিকারসূত্রে এই গোছালো স্বভাব পেয়েছে।
ফুটবল নিয়ে অতিরিক্ত ‘পাগলামি’তে নিষেধাজ্ঞা যদিও মেসি ফুটবল-ঈশ্বর হিসেবে পরিচিত, তবে ঘরে তাঁর ওপর একটি বিষয়ে রয়েছে কড়া নিষেধাজ্ঞা। সেটি হলো, ফুটবল নিয়ে অতিরিক্ত ‘পাগলামি’ করা চলবে না। মেসি জানান, সারাদিন মাঠে বা অনুশীলনে বলের সঙ্গে থাকার পর বাসায় বাচ্চাদের সঙ্গে খেলায় লাগাম টেনে ধরেছেন তাঁর স্ত্রী আন্তোনেলা রোকজ্জু। তিনি হাসতে হাসতে বলেন, “বাসায় খুব বেশি বল খেলতে দেয় না। খুব একটা অগোছালো করা যাবে না।”
নীরব যত্নে ভালোবাসা প্রকাশ নিজের রোমান্টিক দিক নিয়েও খোলামেলা মেসি, যদিও তিনি নিজেকে খুব একটা আবেগপ্রবণ মানুষ বলে মনে করেন না। তিনি বলেন, “আমি খুব প্রকাশভঙ্গিম নই, কিন্তু খেয়াল রাখি। প্রতিদিন ছোটখাটো কিছু করার চেষ্টা করি।” তাঁর মতে, আন্তোনেলা তাঁর চেয়ে অনেক বেশি আবেগপ্রকাশ করেন। এমনকি এ নিয়েও তাঁদের মধ্যে তর্ক হয়েছে—কারণ মেসি তুলনামূলকভাবে ‘ঠান্ডা’। তবুও তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একটাই: “যাদের আমি ভালোবাসি, তাদের হাসিখুশি দেখা।”
ফুটবলের ইতিহাসে প্রায় নিখুঁত এক চরিত্র হিসেবে পরিচিত লিওনেল মেসির এই স্বীকারোক্তি আবারও মনে করিয়ে দেয়—মহাতারকার আড়ালেও আছেন এক নিঃসঙ্গ, শৃঙ্খলাপ্রিয়, এবং নীরবে ভালোবাসতে জানা সাধারণ মানুষ।