পরিবর্তিত আরপিও এবং নতুন কৌশল গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো জোটগতভাবে নির্বাচন করলেও অন্য কোনো দলের প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। এই পরিবর্তন জমিয়তকে তাদের নিজস্ব প্রতীক 'খেজুর গাছ' নিয়ে নির্বাচনে যেতে বাধ্য করেছে। অতীতে তারা বিএনপির সঙ্গে জোট করে 'ধানের শীষ' প্রতীকে নির্বাচন করত।
জমিয়ত সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক কাসেমি এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি কালবেলাকে বলেন, “বিএনপির পক্ষ থেকে ঘোষণা রয়েছে— 'ধানের শীষের পক্ষ নিন, খেজুর গাছে ভোট দিন'। ফলে তৃণমূল পর্যন্ত সবার কাছে এবারের নির্বাচনে খেজুর গাছই হলো তাদের ধানের শীষ। প্রথমে কিছুটা সন্দেহ থাকলেও এখন আর কোনো শঙ্কা নেই।”
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আত্মবিশ্বাস দলের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি জানান, 'ধানের শীষ'-এর অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও 'খেজুর গাছ' প্রতীক নিয়ে জমিয়ত দারুণভাবে আত্মবিশ্বাসী। তিনি মনে করেন, মানুষ যথেষ্ট সাড়া দিচ্ছে এবং প্রতীকটি সর্বত্র ছড়িয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা দলীয় প্রতীক খেজুর গাছ নিয়েই বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।” তিনি এটিকে চ্যালেঞ্জ এবং একইসঙ্গে জমিয়তের স্বতন্ত্র স্বকীয়তা মানুষের কাছে তুলে ধরার সুযোগ হিসেবেও গ্রহণ করেছেন। তার আশা, আসন সমঝোতা থাকলেও ভিন্ন প্রতীকে নির্বাচন ভোটের অঙ্কে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না।
প্রচারণায় বাড়তি গুরুত্ব প্রতীক 'খেজুর গাছ'কে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণায় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে জমিয়তের প্রচার বিভাগ। প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী জানান, ধানের শীষ না থাকায় ভোটারদের মধ্যে যেন বিভ্রান্তি না তৈরি হয়, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তার মতে, “আলহামদুলিল্লাহ খেজুর গাছ প্রতীকটা এখন কারো কাছে অপরিচিত না... দেশের মানুষের কাছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বা খেজুর গাছ অপরিচিত কোনো দল বা প্রতীক নয়।”
মাঠপর্যায়ের প্রতিক্রিয়া কেন্দ্রের এই আত্মবিশ্বাস তৃণমূল পর্যন্ত প্রতিফলিত হচ্ছে। জমিয়ত সিলেট জেলা উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মুফতি এবাদুর রহমান বলেন, শুরুতে কর্মীদের মধ্যে কিছুটা প্রশ্ন থাকলেও এখন সবাই খেজুর গাছ নিয়েই প্রচারণায় নেমেছেন। তাদের অঞ্চলে খেজুর গাছ পূর্ব পরিচিত হওয়ায় মানুষ সহজেই এটিকে ধানের শীষের বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করছে। উপজেলা পর্যায়ের এক নেতা মনে করেন, জোটের মাঠে প্রতীকটি নতুন হলেও 'খেজুর গাছ' ইসলামী সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত এবং আমজনতার কাছে এটি আদি প্রতীক, যা সহজে পরিচিতি পাচ্ছে।
সুযোগ নাকি ঝুঁকি? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন জমিয়তের জন্য দ্বিমুখী: এটি একদিকে যেমন বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনি অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে দলীয় স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলার সুবর্ণ সুযোগ। তারা মনে করেন, জমিয়ত যদি এই প্রতীক নিয়ে উল্লেখযোগ্য ভোট পায়, তাহলে ভবিষ্যতে জোট রাজনীতিতে তাদের দরকষাকষির শক্তি বহুগুণ বাড়বে। সামগ্রিকভাবে, 'খেজুর গাছ' প্রতীক নিয়ে জমিয়তের এবারের নির্বাচন তাদের সাংগঠনিক শক্তি, ভোটভিত্তি ও রাজনৈতিক স্বকীয়তার বাস্তব পরীক্ষা।